Wednesday, January 30, 2013

আশিস বাবূর মন্তব্য নিয়ে বিতর্ক যাই থারুক, শাসক শ্রেমীর হয়ে তিনি অমোঘ সত্য উদ্ঘাটন করেছেন, তাঁকে ধন্যবাদ। তিনি বলেছেন, বাংলায় গত একশো বছরে ওবিসি, এসসি এসটির কোনও উন্নয়ন হয়নি। যা আমরা বার বার বলে এসেছি। মলাইদার তবকার দুর্নীতি নির্ভর উন্নয়নে যে বহুসংখ্য মানুষের স্যাটারিয়েল উন্নয়ন হয়না, পাহাড়ে ও জঙ্গলমহলে সেই সত্যের বিস্ফোরণ হচ্ছে বার বার। অথচ শাসক শ্রেণীর নির্লজ্জ বক্তব্য অর্থনৈতিক উন্নয়নে অন্য রাজ্যের তুলনায় বাংলার ওবিসি এসসি ও এসটি এগিয়ে, তাই ক্ষমতায় তাংদের হিস্সার কোনো প্রয়োজন নেই। আমরা এ কথা সোচ্চার কন্ঠে বললেই তিরস্কৃত হচ্ছি জাত পাতের রাজনীতির দোহাই দিয়ে, কিন্তু ব্রাহ্মণ্যতন্ত্র কায়েম রাখতে ওবিসি, এসসি ও এসটিকে সর্বক্ষেত্রে নির্মম বন্চনার অপরাধ ও অস্পৃশ্যতা হল প্রগতিবাদ। এই প্রগতিবাদের ফসল এখন শষ্য শ্যামলা বাংলার বর্তমান। বরং মাননীয় আশিসবাবুর বক্তব্যের আলোকে সাচ্চার কমিটির মত আরেকটি কমিটি সুপ্রিম কোর্টের মাননীয় জাস্টিসের অধ্যক্ষতায় তৈরী করে যাবতীয় বিতর্কের অবসান হোক। কাদের বাস্তবে উন্নয়ন হয়েছে এই পশ্চিম বঙ্গে এই উন্নয়নে ওবিসি, এসসি, এসটি, সংখ্যালঘু, অবাঙ্গালি বঙ্গবাসিদের ভাগ ঠিক ক

আশিস বাবূর মন্তব্য নিয়ে বিতর্ক যাই থারুক, শাসক শ্রেমীর হয়ে তিনি অমোঘ সত্য উদ্ঘাটন করেছেন, তাঁকে ধন্যবাদ। তিনি বলেছেন, বাংলায় গত একশো বছরে ওবিসি, এসসি এসটির কোনও উন্নয়ন হয়নি। যা আমরা বার বার বলে এসেছি। মলাইদার তবকার দুর্নীতি নির্ভর উন্নয়নে যে বহুসংখ্য মানুষের স্যাটারিয়েল উন্নয়ন হয়না, পাহাড়ে ও জঙ্গলমহলে সেই সত্যের বিস্ফোরণ হচ্ছে বার বার। অথচ শাসক শ্রেণীর নির্লজ্জ বক্তব্য অর্থনৈতিক উন্নয়নে অন্য রাজ্যের তুলনায় বাংলার ওবিসি এসসি ও এসটি এগিয়ে, তাই ক্ষমতায় তাংদের হিস্সার কোনো প্রয়োজন নেই। আমরা এ কথা সোচ্চার কন্ঠে বললেই তিরস্কৃত হচ্ছি জাত পাতের রাজনীতির দোহাই দিয়ে, কিন্তু ব্রাহ্মণ্যতন্ত্র কায়েম রাখতে ওবিসি, এসসি ও এসটিকে সর্বক্ষেত্রে নির্মম বন্চনার অপরাধ ও অস্পৃশ্যতা হল প্রগতিবাদ।  এই প্রগতিবাদের ফসল এখন শষ্য শ্যামলা বাংলার বর্তমান। বরং মাননীয় আশিসবাবুর  বক্তব্যের আলোকে সাচ্চার কমিটির মত আরেকটি কমিটি সুপ্রিম কোর্টের মাননীয় জাস্টিসের অধ্যক্ষতায় তৈরী করে যাবতীয় বিতর্কের অবসান হোক। কাদের বাস্তবে উন্নয়ন হয়েছে এই পশ্চিম বঙ্গে এই উন্নয়নে ওবিসি, এসসি, এসটি, সংখ্যালঘু, অবাঙ্গালি বঙ্গবাসিদের ভাগ ঠিক কতটা। যখন সবারই উন্নয়ন ঘটে গেছে, শাসক শ্রেণীর অবিলম্বে এমনিই ব্যবস্থা করে যাবতীয় ক্ষোভ নিরসন করা উচিত। কংগ্রেস সেই 1977 থেকে এই রাজ্যে ক্ষমতার বাইরে, অস্পৃশ্য। কিন্তু কেন্দ্রে তাঁদেরই সরকার। মাননীয় রাষ্ট্রপতি এই বাংলারই কংগ্রেস নেতা। লড়াকু কংগ্রেসি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অধীর চৌধুরি ও শ্রীমতী দীপা দাসমুল্সি,প্রদীপ ভট্টাচার্য, মানস ভুঁইয়ারা বরং এটাই প্রমাণিত করুন তাঁদের ক্ষমতার বাইরে রেখে এ যাবত কতটা উন্নয়ন হয়েছে, কাদের উন্নয়ন হয়েছে।  আজ পাহাড়ে বা জঙ্গলমহলে আগুনের উত্স কোথায়।  মনে রাখা দরকার পাহাড়ে ও জঙ্গলমহলে ওবিসি , এসসি ও এসটি জনগোষ্ঠীগুলোরাই সংখ্যাগরিষ্ঠ

পলাশ বিশ্বাস 
Please Download bengali Fonts and Avro Tool to read and write Bengali. Pl Visist:


GJM leader Roshan Giri slams govt over attemt to create lepcha developme

<iframe width="420" height="315" src="http://www.youtube.com/embed/S5YQ4dFac5g" frameborder="0" allowfullscreen></iframe>
তাল কাটল দার্জিলিঙে মুখ্যমন্ত্রীর সভায়৷ গোর্থাল্যান্ডের দাবি তুলে মমতার অস্বস্তি বাড়াল মোর্চা৷ আজকের সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী প্রথমে বার্তা দেন, পাহাড় বাংলার অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ৷ এমন কিছু করবেন না যাতে উন্নয়ন ব্যাহত হয়৷ মুখ্যমন্ত্রী এই বার্তা দেওয়ার পরেই মঞ্চের সামনেই পৃথক গোর্খাল্যান্ডের দাবিতে সরব হন মোর্চা সমর্থকরা৷ গোটা ঘটনায় বেজায় ক্ষুব্ধ হন মুখ্যমন্ত্রী৷ মোর্চা কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশে বলেন, গোর্খাল্যান্ডের দাবি রাজনৈতিক৷ সরকারি অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক দাবি তুলবেন না৷ মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি, এ বিষয়ে তিনি ভীষণ রূঢ ও কঠোর৷

<iframe width="420" height="315" src="http://www.youtube.com/embed/N7jQsrTJZVU" frameborder="0" allowfullscreen></iframe>

"দার্জিলিঙকে এই রাজ্যের অঙ্গ বলায় পাহাড়বাসীর আবেগ আহত হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্য করা উচিত হয়নি। মুখ্যমন্ত্রী যখনই এখানে আসেন আমাদের সামান্য দুঃখ দিয়ে যান।" উত্তরবঙ্গ উৎসবের অনুষ্ঠান মঞ্চে 


মুখ্যমন্ত্রীর ভাষণের পর তাঁর সামনেই গোর্খাল্যান্ডের দাবিতে সরব হলেন উপস্থত মোর্চার কর্মী সমর্থকরা। এর পরেই উত্তেজিত মুখ্যমন্ত্রী মঞ্চ থেকেই কার্যত ধমকের সুরে মোর্চা সমর্থকদের জানালেন, "এটা রাজনৈতিক দাবি 


মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সামনেই  পাহাড়ে আবার গোরখাল্যান্ডের দাবি উঠে গেল
। পাহাড় হাসছে, জঙ্গলমহল হাসছে, পরিবর্তনের এই দাবি নসাত করে দিয়ে হঠাত পাহাড়ে ছন্দপতন হল। ম্লান হয়ে গেল পাহাড়ের হাসি। জঙ্গলমহলে এখনো শান্তি বজায় আছে, এমনটাই মনে করা হয়। কিন্তু দীর্ঘস্থায়ী শান্তির জন্য যে পদক্ষেপ প্রয়োজন রাজনৈতিক চালবাজিতে তার উপেক্ষা আজও অব্যাহত। সমাজ বিজ্ঞানী আশিস নন্দী জয়পুরে ওবিসি, এসসি ও এসটি সম্পর্কে যে মন্তব্য করেছেন , বাংলার শাসকশ্রেণী তারই সমর্থনে সরব।  মুক বধির বহুসংখ্য জনগোষ্ঠীর চাপা ক্ষোভ কোনও মীডিয়াতে প্রকাশিত প্রসারিত হয়না।  তাই মোটেই জানা যাবে না তাঁরা কি ভাবছেন, কিন্তু তাঁরা কি করবেন, এটা নিয়ে চিন্তা থাকছেই। 

পাহাড়ে যা হচ্ছে সে যে এই রাজ্যের অস্তিত্বের জন্য সমুহ অশনিসংকেত, রাজনৈতিক সংরক্ষণ অনুযাযী পসন্দসই মুখ তুলে ধরে উন্নয়নের যে দীর্ঘস্থায়ী ভাঁওতার রেওয়াজ চলছে, সচ্চার কমিটির প্রতিবেদনে 27 শতাংশ মুসলমান ভালোভাবেই বুছতে পেরেছেন এবং তাঁরাই পাল্টে দিয়েছেন। 

গণ আন্দোলনে যে বিপ্লব হল, তা সাচ্চার কমিটির রিপোর্ট ছাড়া বাংলায় পরিবর্তনের জন্য কখনো যথেষ্ট ছিল না

 আশিস বাবূর মন্তব্য নিয়ে বিতর্ক যাই থারুক, শাসক শ্রেমীর হয়ে তিনি অমোঘ সত্য উদ্ঘাটন করেছেন, তাঁকে ধন্যবাদ। তিনি বলেছেন, বাংলায় গত একশো বছরে ওবিসি, এসসি এসটির কোনও উন্নয়ন হয়নি। যা আমরা বার বার বলে এসেছি

 মলাইদার তবকার দুর্নীতি নির্ভর উন্নয়নে যে বহুসংখ্য মানুষের স্যাটারিয়েল উন্নয়ন হয়না, পাহাড়ে ও জঙ্গলমহলে সেই সত্যের বিস্ফোরণ হচ্ছে বার বার। 

অথচ শাসক শ্রেণীর নির্লজ্জ বক্তব্য অর্থনৈতিক উন্নয়নে অন্য রাজ্যের তুলনায় বাংলার ওবিসি এসসি ও এসটি এগিয়ে, তাই ক্ষমতায় তাংদের হিস্সার কোনো প্রয়োজন নেই। আমরা এ কথা সোচ্চার কন্ঠে বললেই তিরস্কৃত হচ্ছি জাত পাতের রাজনীতির দোহাই দিয়ে, কিন্তু ব্রাহ্মণ্যতন্ত্র কায়েম রাখতে ওবিসি, এসসি ও এসটিকে সর্বক্ষেত্রে নির্মম বন্চনার অপরাধ ও অস্পৃশ্যতা হল প্রগতিবাদ। 

 এই প্রগতিবাদের ফসল এখন শষ্য শ্যামলা বাংলার বর্তমান

 বরং মাননীয় আশিসবাবুর  বক্তব্যের আলোকে সাচ্চার কমিটির মত আরেকটি কমিটি সুপ্রিম কোর্টের মাননীয় জাস্টিসের অধ্যক্ষতায় তৈরী করে যাবতীয় বিতর্কের অবসান হোক। 

কাদের বাস্তবে উন্নয়ন হয়েছে এই পশ্চিম বঙ্গে? 

এই উন্নয়নে ওবিসি, এসসি, এসটি, সংখ্যালঘু, অবাঙ্গালি বঙ্গবাসিদের ভাগ ঠিক কতটা? 

যখন সবারই উন্নয়ন ঘটে গেছে, শাসক শ্রেণীর অবিলম্বে এমনিই ব্যবস্থা করে যাবতীয় ক্ষোভ নিরসন করা উচিত

 কংগ্রেস সেই 1977 থেকে এই রাজ্যে ক্ষমতার বাইরে, অস্পৃশ্য। কিন্তু কেন্দ্রে তাঁদেরই সরকার। মাননীয় রাষ্ট্রপতি এই বাংলারই কংগ্রেস নেতা। লড়াকু কংগ্রেসি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অধীর চৌধুরি ও শ্রীমতী দীপা দাসমুল্সি,প্রদীপ ভট্টাচার্য, মানস ভুঁইয়ারা বরং এটাই প্রমাণিত করুন তাঁদের ক্ষমতার বাইরে রেখে এ যাবত কতটা উন্নয়ন হয়েছে, কাদের উন্নয়ন হয়েছে।  আজ পাহাড়ে বা জঙ্গলমহলে আগুনের উত্স কোথায়

  মনে রাখা দরকার পাহাড়ে ও জঙ্গলমহলে ওবিসি , এসসি ও এসটি জনগোষ্ঠীগুলোরাই সংখ্যাগরিষ্ঠ। 

বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে আশিস নন্দীর বিরুদ্ধে শমন জারি করল আদালত। রবিবরই তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করে রাজস্থান পুলিস। শনিবার জয়পুর সাহিত্য উত্‍সবে তফশিলি জাতি-উপজাতি ও অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণি সম্পর্কে বিতর্কিত মন্তব্য করে দেশজুড়ে সমালোচনার মুখে পড়েন আশিস নন্দী। তিনি বলেন, "এইসব সম্প্রদায়ের মধ্যেই দুর্নীতি বেশি।" 

গোটা ঘটনায় ইতিমধ্যেই ক্ষমা চেয়ে নিয়েছেন আশিস নন্দী। একইসঙ্গে, তিনি দাবি করেছেন তাঁর কথার ভুল ব্যাখ্যা করা হয়েছে। তফশিলি জাতি-উপজাতি ও অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির কেউ দুর্নীতিতে জড়ালে তা প্রকাশ্যে আসে, কিন্তু উচ্চবর্ণের দুর্নীতি ঢাকা পড়ে যায় - এমন কথাই বলতে চেয়েছিলেন বলে দাবি করেছেন সমাজতাত্ত্বিক আশিস নন্দী। ইতিমধ্যেই কংগ্রেস, বিজেপি, বসপা সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল বিশিষ্ট সমাজতাত্ত্বিক, রাজনৈতিক বিশ্লেষক আশিস নন্দীর মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছে। আলোচনাচক্রটিতে আশিষ নন্দী বলেন ``যে সমস্ত মানুষেরা দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত মূলত তাঁরা ওবিসি, এসসি অথবা এসটি সম্প্রদায়ভুক্ত।``

যদিও তাঁর সাফাইয়ে বিন্দুমাত্র বিতর্কের অবসান হয়নি। বসপা সুপ্রিমো মায়াবতী আশিষ নন্দীর মানসিক সুস্থতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। বলেছেন, রাজস্থান সরকার এবং সাহিত্য উৎসবের উদ্যোক্তারা যদি আশিষ নন্দীর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নেন সেক্ষেত্রে তাঁরা দলীয় ভাবে পদক্ষেপ নেবেন।

আশিস নন্দীর মন্তব্যের সমালোচনা করেছেন সিপিআই নেতা ডি রাজাও। বিখ্যাত দলিত সাহিত্যিক চন্দ্রভান প্রসাদ প্রশ্ন তুলেছেন কিসের ভিত্তিতে এই রকম মন্তব্য করেছেন আশিস নন্দী।  


সম্পাদক সমীপেষু...
শ্রেণি-র বদলে 'আইডেন্টিটি'র রাজনীতি?
সমাজবিজ্ঞানী আশিস নন্দীর সাক্ষাৎকার (২৪-৫) প্রসঙ্গে এই চিঠির অবতারণা। আশিস নন্দী বলেছেন, ''পশ্চিমবঙ্গের যারা নীচের তলার লোক, যাদের 'শোষিত সমাজ' বলতে পারেন, তাদের আইডেন্টিটিগুলো (বামফ্রন্টের আমলে) মুছে দেওয়া হল। তারা গরিব, তারা শোষিত যেন স্রেফ এইটুকুই তাদের পরিচয়। এর মধ্যে যে অজস্র কমিউনিটি আছে, নানা ধরনের সমাজ, সংস্কৃতি, জাতি, সেগুলো কোনও দিনও স্পষ্ট হয়ে উঠল না।" অর্থাৎ আশিস নন্দীর মতে, বাম রাজনীতির প্রধান ভুল হল, 'কমিউনিটি' ভিত্তিক রাজনীতির পরিবর্তে 'শ্রেণি বা ক্লাস' ভিত্তিক রাজনীতি করা। 
প্রসঙ্গত বিশ্বব্যাঙ্কের ঘোষিত নীতির মূল লক্ষ্য হল, শ্রেণিভিত্তিক আন্দোলনকে দুর্বল করে 'আইডেন্টিটি'কে রাজনীতির মূল ভিত্তি বানিয়ে মানুষকে বিভাজিত করা এবং বিভেদের চরম গণ্ডগোলে দেশগুলিকে সাম্রাজ্যবাদের মৃগয়াক্ষেত্র বানিয়ে তোলা। ঠিক এমনই ঘটেছে পূর্বতন সমাজতান্ত্রিক বসনিয়া, সার্বিয়া, কসভো, চেচেনিয়া এমনকী আফগানিস্তানে। মুক্ত বাজার অর্থনীতি খচিত বিশ্বায়নের হাত ধরেই এসেছে বিশ্বব্যাপী জাতিদাঙ্গা ও ধর্মীয় সন্ত্রাসবাদ। বিশ্ব ব্যাঙ্ক তার ওয়ার্ল্ড ডেভেলেপমেন্ট রিপোর্ট ২০০১-এ এই অভিমত প্রকাশ করেছে যে, স্থানীয় স্তর থেকে জাতি/ধর্ম ভিত্তিক সম্প্রদায়গত মানুষের অংশগ্রহণের মাধ্যমেই অধিক সামাজিক মূলধন (সোশ্যাল ক্যপিটাল) গঠনের মাধ্যমেই গ্রাম ও শহরের উন্নয়ন হতে পারে। এখানে বিশ্বব্যাঙ্ক ধরে নিয়েছে যে, প্রতিটি সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণকারী মানুষজন সমশ্রেণিভুক্ত। বিশ্বব্যাঙ্কের প্রধান দাওয়াই হল, স্থানীয় স্তরে জাতি-ধর্ম খোচিত কমিউনিটি পঞ্চায়েতগুলি হবে 'অরাজনৈতিক', 'রাষ্ট্রীয়' প্রভাব মুক্ত। যদিও তাতে আই এম এফ/বিশ্ব ব্যাঙ্কের আশীর্বাদধন্য এন জি ও-রা প্রবলবিক্রমে হাজির থাকবে।
বর্তমান পত্রলেখক তাঁর গবেষণাপত্র 'ক্লাস অ্যান্ড পলিটিক্স অব পার্টিসিপেটরি রুরাল ট্রান্সফরমেশন ইন ওয়েস্ট বেঙ্গল'-এ (জার্নাল অব অ্যগ্রারিয়ান চেঞ্জ, ব্ল্যাকওয়েল, জুলাই, ২০০৭) বিশ্বব্যাঙ্কের এই অবস্থানকে খারিজ করে দেখান পশ্চিমবঙ্গের তফসিলি জাতি, উপজাতি, এবং মুসলিম সম্প্রদায় (আশিস নন্দীর 'নীচের তলার লোক') শ্রেণিগত ভাবে বিভাজিত এবং ক্লাস ডিফারেনটিয়েটেড। অর্থাৎ তফসিলি জাতি ও উপজাতিগুলির ভিতরেও বিত্তবান শ্রেণি যেমন বড় চাষি ও মাঝারি চাষি রয়েছেন। যদিও গরিব শ্রেণির পাল্লা এদের মধ্যে অনেকটা ভারী।
জে এন ইউ-এর অধ্যাপক প্রদীপ্ত চৌধুরী তাঁর এক গবেষণাপত্রে সারা ভারতবর্ষের তফসিলি জাতি ধরে ধরে দেখিয়েছেন তারা সবাই শ্রেণিগত ভাবে বিভাজিত। বর্তমান পত্রলেখক ও প্রদীপ্ত চৌধুরীর মতে, এই জনগোষ্ঠীগুলির উত্তরণের জন্য যেটা করা দরকার তা হল, জাতি রাজনীতির মধ্যে আবর্তিত না-হয়ে শ্রেণিগত বিভাজনের মূলে কুঠারাগাত করা।
ঠিক এই জিনিসটাই পশ্চিমবঙ্গে ভূমি সংস্কারের মাধ্যমে হয়েছে যার বিরাট অংশের লাভবান হলেন তফসিলি জাতি ও উপজাতির মানুষ যা আশিস নন্দীও স্বীকার করেছেন। নব্বই সালের গোড়ার দিকে জাতীয় রাজনীতিতে ও বি সি সংরক্ষণের প্রশ্নে ঝড় তোলা মণ্ডল কমিশনের রিপোর্টেও স্বীকার করা হয়েছে, যে পশ্চিমবঙ্গ ও কেরলের ভূমিসংস্কার পশ্চাদপদ জাতিগুলিকে বস্তুগত সাহায্যই শুধু জোগায়নি তাদের রাজনৈতিক ভাবেও শক্তিশালী করেছে। মণ্ডল কমিশন পশ্চাদপদ জাতির স্বার্থে পশ্চিমবঙ্গ ও কেরলের আদলে সারা ভারতে এ রকম ভূমি সংস্কারের সুপারিশ করেছে (উক্ত রিপোর্ট, পৃ-৬০)। অন্য দিকে, প্রভাত পট্টনায়ক-সহ অনেক চিন্তাবিদের মতে, মাওবাদীরা শ্রেণিসংগ্রামের নামে আইডেন্টিটি রাজনীতিতে আবর্তিত হয়ে আছেন বলেই তাঁরা জঙ্গলমহলের বাইরে সংগঠন বিস্তার করতে পারেননি। তবে আশিস নন্দীর সঙ্গে এই বিষয়ে একমত যে, নিম্নবর্গীয় নানা মানুষের সাংস্কৃতিক উপাদান নিয়েই সমাজের মূল ধারার সংস্কৃতি গড়ে ওঠা দরকার। বামফ্রন্টের আমলে তা একেবারে হয়নি তা নয়। বামফ্রন্ট ছোটলোকদের মাথায় তুলেছে এটা পশ্চিমবঙ্গের তথাকথিত ভদ্রলোক সংস্কৃতির বহুকথিত অভিযোগ। পত্রলেখক তাঁর গ্রাম সমীক্ষা নির্ভর গবেষণায় দেখেছেন বামফ্রন্ট ক্ষমতায় আসার আগে বিভিন্ন ব্রাহ্মণপাড়া দিয়ে নিচু জাতের মানুষদের জুতো হাতে ধরে খালি পায়ে হাঁটতে হত। আজ সে সব এলাকায় পঞ্চায়েতের মাথায় নিচু জাতের লোকেরা বসে আছেন। অনেক ক্ষেত্রে কিছু ব্রাহ্মণ কুসন্তানের বিচারও করছেন। 
আ বা প-র সাক্ষাৎকারী আশিস নন্দীকে জানিয়েছেন বামফ্রন্ট একটি সঙ্ঘের জন্য বিশেষ সরকারি পুরস্কার চালু করেছে। এ সবেরই ফল ১৯৭৭ থেকে ২০০৯ সাল অবধি পশ্চিমবঙ্গের তফসিলি জাতি ও উপজাতি অধ্যুষিত কেন্দ্রগুলিতে বামফ্রন্ট টানা জিতে এসেছে। সাম্প্রদিক একটা দুটো নির্বাচনের ভিত্তিতে বামফ্রন্টের তরফে নিচু তলার লোকেদের উপেক্ষার অভিযোগ খুব যুক্তিযুক্ত নয়।


গোর্খাল্যান্ডের জন্য প্রয়োজনে গুলি খেতেও প্রস্তুত মোর্চা। আজ রাজ্য সরকারকে চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে মোর্চা সভাপতি বলেন, সরকার যদি পুলিস দিয়ে আন্দোলন প্রতিরোধ করতে চায়, তবে সংঘর্ষের পথে যেতেও মোর্চা রাজি। একই সুর শোনা গেছে দিল্লিতে ধরনায় বসা মোর্চা নেতৃত্বের গলাতেও। তাঁদের সাফ কথা, পাহাড়ে অশান্তির আগুন জ্বললে তার সব দায় বর্তাবে সরকারের ওপর। 

মুখ্যমন্ত্রীকে বাদ দিয়েই বিজনবাড়িতে রঙ্গিলা নদীর ওপর নতুন সেতু উদ্বোধন করতে গিয়ে মোর্চা নেতা বিমল গুরুং বলেন, "এখনও পর্যন্ত গণতান্ত্রিক পথে আন্দোলন শান্তিপূর্ণ চলছে। কিন্তু, যেকোনও সময় আন্দোলন চরম আকার নিতে পারে। সেক্ষেত্রে রাজ্য ও কেন্দ্র সরকারকেই দায় নিতে হবে।"

একই সুর শোনা গিয়েছে দিল্লির ধরনা মঞ্চেও। মোর্চা নেত্রী আশা গুরুং, রোশন গিরির গলাতেও হুমকি শোনা গেছে। রোশন গিরি বলেন, "গতকালের ঘটনা মানুষের ভাবাবেগে আঘাত দিয়েছে"। এমনকী, বিজনবাড়ি সেতুর উদ্বোধনেও একই হুমকি শোনা গেছে বিমল গুরুংয়ের গলাতেও।

গত কয়েকদিন ধরেই যন্তর-মন্তরে ধরনা দিচ্ছেন মোর্চা নেতা-কর্মীরা। গোর্খাল্যান্ড ইস্যুতে বিজেপিকে সক্রিয়ভাবে পাশে পাওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তাঁরা। গোর্খাল্যান্ডের দাবিকে সমর্থন করার অনুরোধ জানিয়ে গতকাল লালকৃষ্ণ আডবাণীর সঙ্গে দেখা করেন রোশন গিরি। সুষমা স্বরাজ-অরুণ জেটলির সঙ্গে দেখা করার জন্য আজ সময় চেয়েছেন তাঁরা।

২০১১-র ২২ অক্টোবর। ভেঙে পড়েছিল বিজনবাড়ি সেতু। মৃত্যু হয়েছিল ৩৪ জনের। সদ্য ক্ষমতায় আসা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেদিন ছুটে গিয়েছিলেন পাহাড়ে। গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার পূর্ণ সমর্থন তখন তাঁর সঙ্গে। বুধবার সেই বিজনবাড়ি সেতুর উদ্বোধনে গিয়েই রাজ্য সরকারের সঙ্গে সংঘাতের দামাম বাজিয়ে দিলেন মোর্চা সভাপতি। হঠাত্‍ কেন এতটা আক্রমণাত্মক হয়ে উঠলেন বিমল গুরুং? 

মঙ্গলবার তাঁর ভাষণে মুখ্যমন্ত্রী একাধিকবার দার্জিলিঙকে বাংলার অংশ বলে উল্লেখ করেছেন। আর তাতেই বেজায় চটেছেন মোর্চা নেতৃত্ব। পাহাড় বেয়ে সেই ক্ষোভের আগুন পৌঁছেছে দিল্লিতেও।

মঙ্গলবার উত্তরবঙ্গ উত্‍সবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গোর্খাল্যান্ডের দাবি তোলা মোর্চা সমর্থকদের ধমকে চুপ করিয়ে দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী।


বুধবার মোর্চা সভাপতির হুঁশিয়ারি অশান্তির যে অশনি সঙ্কেত রেখে গেল, মুখ্যমন্ত্রীর শাসনে তা বাধ মানবে তো? সংশয়ে রাজনৈতিক মহল। 


গোর্খাল্যান্ডের দাবির তোলার পর নতুন করে রাজ্যের সঙ্গে সংঘাতের পথে মোর্চা। মুখ্যমন্ত্রীকে বাদ দিয়েই বিজনবাড়িতে রঙ্গিলা নদীর ওপর নতুন সেতু উদ্বোধনের সিদ্ধান্ত নিল জিটিএ। আজ সকাল এগারোটায় সেতুর উদ্বোধন করবেন জিটিএর চিফ এক্সিকিউটিভ বিমল গুরুং। 

যদিও মুখ্যমন্ত্রীর কর্মসূচিতে এই সেতু উদ্বোধনের বিষয়টি ছিল। 

মঙ্গলবার সরকারি অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রীর সামনেই গোর্খাল্যান্ডের দাবিতে স্লোগান দেন মোর্চা সমর্থকেরা। ধমকেও বিক্ষোভ না থামায় ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী মঞ্চ ছেড়ে  চলে যান।  

এর পরেই বিমল গুরুং বলেন, পাহাড় পশ্চিমবঙ্গের অঙ্গ একথা বলে পাহাড়বাসীর ভাবাবেগে আঘাত দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। পাট্টা বিলি ঐতিহাসিক কাজ বলে মুখ্যমন্ত্রীকে বিদ্রুপও করেন তিনি।  জিটিএর কাজে হস্তক্ষেপ করছে রাজ্য, এই অভিযোগও করেছেন মোর্চা সভাপতি। 

সংঘাতের এই আবহের মধ্যে মুখ্যমন্ত্রীকে বাদ দিয়ে বিমল গুরুংই বিজনবাড়ি সেতুর উদ্বোধন করবেন বলে ঘোষণা করা হয়।  


দার্জিলিঙে উত্তরবঙ্গ উৎসবের সূচনায় শুরুতেই ছন্দপতন। মুখ্যমন্ত্রীর ভাষণের মাঝেই তাঁর সামনেই গোর্খাল্যান্ডের দাবিতে পোস্টার নিয়ে বিক্ষোভ জানাতে  থাকেন উপস্থিত মোর্চার কর্মী সমর্থকরা। এর পরেই উত্তেজিত মুখ্যমন্ত্রী মঞ্চ থেকেই কার্যত ধমকের সুরে মোর্চা সমর্থকদের জানালেন, "এটা রাজনৈতিক দাবি জানানোর জায়গা নয়, সরকারি মঞ্চ। আপনাদের দাবি আপনাদের দলীয় সভায় জানাবেন।" মঞ্চে তখন উপস্থিত গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার প্রধান বিমল গুরুং। 
দেখুন ভিডিও

http://zeenews.india.com/bengali/zila/chaos-at-north-bengal-fest-cm-leaves-dias_11047.html



এর পরেই সভা স্থল থেকে বহু মানুষ বেরিয়ে যেতে শুরু করেন। মঞ্চ থেকে নেমে চেয়ারে বসেন দৃশ্যত ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রীও। তাঁর প্রস্থানের পরেই একে একে মঞ্চ ছাড়েন বিমল গুরুং সহ অন্যান্য নেতারা। মুখ্যমন্ত্রীকে বোঝাতে চেষ্টা করেন বিমল গুরুং। এর পর অনুষ্ঠান থেকেই বেড়িয়ে যান মুখ্যমন্ত্রী, বিমল গুরুং এবং অন্যান্যরা। 

এর আগে মুখ্যমন্ত্রী উদ্বোধনী ভাষণে বলেন, "দার্জিলিঙ এই রাজ্যেরই অংশ।" পাহাড়ে অনেক কাজ হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। একই সঙ্গে অন্যান্য জেলা সফরের মতো এই মঞ্চেও মুখ্যমন্ত্রী আরও অনেক প্রতিশ্রুতিও দেন। দুটি পলিটেকনিক কলেজ, দুটি আইটিআই, দুটি বিদ্যৎ প্রকল্প, একটি বিমানবন্দর, একটি হেলিপ্যাড সহ প্রভূত প্রতিশ্রুতির ঘোষণা করেন তিনি। তবে দৃশ্যতই এতে চিঁড়ে ভিজল না মোর্চা সমর্থকদের। তাঁর সামনেই বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন তাঁরা। 

সভাস্থলে গোর্খাল্যান্ড ইস্যুতে বিক্ষোভের মুখে পড়ায় মোর্চা নেতাদের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠক বাতিল হয়ে যায়। অথচ আজ মোর্চা নেতা বিনয় তামাং জানিয়েছিলেন, মঙ্গলবার দার্জিলিংয়ে সভার শেষে বিকালে মমতার সঙ্গে বৈঠকে বসবেন তাঁরা। 

গত কয়েকদিন ধরে গোর্খাল্যান্ডের  দাবিতে  দিল্লির যন্তরমন্তরে বিক্ষোভ দেখালেও আজ মোর্চার কোনও কর্মসূচি নেই বলেই জানা গেছে। আজ বিকেলে মোর্চার শীর্ষ নেতৃত্ব দেখা করতে পারেন বিজেপি নেতা লালকৃষ্ণ আডবাণীর সঙ্গে।


দার্জিলিং:  তাল কাটল দার্জিলিঙে মুখ্যমন্ত্রীর সভায়৷ গোর্খাল্যান্ডের দাবিতে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সামনেই স্লোগান, বিক্ষোভ! লক্ষ্য তিনিই। মঙ্গলবার এই দৃশ্য দেখল পাহাড়, মু্খ্যমন্ত্রীর সরকারি অনুষ্ঠানে। গোর্খাল্যান্ডের দাবি তুলে মমতার অস্বস্তি বাড়াল মোর্চা৷ আজকের সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী প্রথমে বার্তা দেন, পাহাড় বাংলার অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ৷ এমন কিছু করবেন না যাতে উন্নয়ন ব্যাহত হয়৷ মুখ্যমন্ত্রী এই বার্তা দেওয়ার পরেই মঞ্চের সামনেই পৃথক গোর্খাল্যান্ডের দাবিতে সরব হন মোর্চা সমর্থকরা৷ মঞ্চে তখন মুখ্যমন্ত্রীর পাশে মোর্চা সভাপতি বিমল গুরুং৷ গুরুং মোর্চা সমর্থকদের শান্ত হওয়ার আবেদন করলেও তাতে কাজ হয়নি৷ গোটা ঘটনায় বেজায় ক্ষুব্ধ হন মুখ্যমন্ত্রী৷ মোর্চা কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশে বলেন, গোর্খাল্যান্ডের দাবি রাজনৈতিক৷ সরকারি অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক দাবি তুলবেন না৷ মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি, এ বিষয়ে তিনি ভীষণ রূঢ ও কঠোর৷


গতকাল রাজধানীর রাজপথে ধরনায় বসে মোর্চা নেতা রোশন গিরি জানিয়েছিলেন, গোর্খাল্যান্ডের দাবি সঙ্গে নিয়েই তাঁরা গোর্খাল্যান্ড টেরিটরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (জিটিএ) চুক্তিতে সই করেছিলেন। অতএব গোর্খাল্যান্ড চাই। কিন্তু দেড় বছর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষমতায় থাকার পরও এই দাবি না মেটায় মোর্চা নিচু স্তরে ক্ষোভ-অসন্তোষের পারদ ক্রমশ চড়ছে পরিস্থিতি যে গুরুংদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে সেই ইঙ্গিতও পাওয়া গেল আজ।  কেননা, গুরুঙ্গ যখন মঞ্চে বসে তখনই পুরোদমে বিক্ষোভ চলল। রাজনৈতিক মহলের অনুমান, এমনও হতে পারে যে এই ঘটনার মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রীকেও বার্তা দিতে চাইলেন মোর্চা নেতৃত্ব। গোর্খাল্যান্ডের দাবিতে পাহাড় যে কতটা তেতে রয়েছে এবং আজও পৃথক রাজ্যের দাবি না মেটায় ক্ষোভের আগুন ধিকি ধিকি জ্বলছে  সেটাই মুখ্যমন্ত্রীকে দেখিয়ে দিলেন তাঁরা। 

http://abpananda.newsbullet.in/state/34-more/33027-2013-01-29-10-15-32


"দার্জিলিঙকে এই রাজ্যের অঙ্গ বলায় পাহাড়বাসীর আবেগ আহত হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্য করা উচিত হয়নি। মুখ্যমন্ত্রী যখনই এখানে আসেন আমাদের সামান্য দুঃখ দিয়ে যান।" উত্তরবঙ্গ উৎসবের অনুষ্ঠান মঞ্চে বিক্ষোভ প্রর্শনকারীদের কার্যত সমর্থন করে এই প্রতিক্রিয়াই জানালেন জিটিএ প্রধান বিমল গুরুং। 

তিনি আরও অভিযোগ করেন জিটিএকে অন্ধকারে রেখেই সরকারি সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। এই প্রসঙ্গে তিনি সরাসরি ক্ষোভ প্রকাশ করেন জিটিএ-র প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি জেলাশাসক সৌমিত্র মোহনের বিরুদ্ধে।
দেখুন কী বললেন বিমল গুরুং (ভিডিও)

http://zeenews.india.com/bengali/zila/cm-s-speech-dishonoured-hills-sentiment_11050.html
 উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী গৌতম দেব তাঁকে এ দিনের অনুষ্ঠানে আসতে অনুরোধ করেন। 

এ দিন সভাস্থলে গোর্খাল্যান্ড ইস্যুতে বিক্ষোভের মুখে পড়ায় মোর্চা নেতাদের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠক বাতিল হয়ে যায়। অথচ আজ মোর্চা নেতা বিনয় তামাং জানিয়েছিলেন, মঙ্গলবার দার্জিলিংয়ে সভার শেষে বিকালে মমতার সঙ্গে বৈঠকে বসবেন তাঁরা।

গত কয়েকদিন ধরে গোর্খাল্যান্ডের দাবিতে দিল্লির যন্তরমন্তরে বিক্ষোভ দেখালেও আজ মোর্চার কোনও কর্মসূচি নেই বলেই জানা গেছে। আজ বিকেলে রোশন গিরির নেতৃত্ব দেখা করেন বিজেপি নেতা লালকৃষ্ণ আডবাণীর সঙ্গে। 


গোরখাল্যান্ড ইস্যূ

ভারতের পশ্চিম বঙ্গের উত্তরাঞ্চলের ৬টি জেলায় সোমবার ভোটগ্রহন হতে যাচ্ছে। বহুবছর ধরেই ঐ এলাকার নির্বাচনে একটা বড় ইস্যূ হয়ে দাড়িয়েছে দার্জিলিং পাহাড়ের আলাদা গোরখাল্যান্ডের দাবি। এই ইস্যূ কিভাবে আসছে এবারের নির্বাচনে , তা নিয়ে কোলকাতা থেকে সহকর্মী অমিতাভ ভট্টশালী কথা বলেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক নবেন্দ গুহর সাথে৻

http://www.bbc.co.uk/bengali/multimedia/2011/04/110416_asgorkha.shtml


বামেদের অভিযোগ, রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর এখনও পর্যন্ত ৭৮ জন কৃষক আত্মহত্যা করেছেন। আর এই কৃষক আত্মহত্যাই এবার সিপিআইএমের কৃষক সংগঠন কৃষকসভার রাজ্য সম্মেলনের ফোকাস ছিল। বামেদের অভিযোগ, সরকার কৃষকদের ধানের নায্য মূল্য দিচ্ছে না। সেই কারণেই একের পর এক কৃষক আত্মহত্যা বলে বামেদের দাবি।  

রাজ্যের পঞ্চায়েত নির্বাচনে কৃষক আত্মহত্যাই যে বামেদের মূল রাজনৈতিক হাতিয়ার হতে চলেছে তা স্পষ্ট কৃষকসভার সম্মেলনে। সিপিআইএমের কৃষক সংগঠনের রাজ্য সম্মেলনের দু`দিন ধরে সবচেয়ে বেশি আলোচিত বিষয় ছিল কৃষক আত্মহত্যা। একের পর এক কৃষক আত্মহত্যার জন্য রাজ্য সরকারকেই কাঠগড়ায় তুলছে বিরোধী বাম শিবির। তাঁদের অভিযোগ, চাষের খরচ আকাশ ছুঁয়েছে, নিয়ন্ত্রণে কোনও পদক্ষেপ নিচ্ছে না রাজ্য সরকার।

মে মাসের মধ্যেই রাজ্যে পঞ্চায়েত নির্বাচন হতে চলেছে। নির্বাচন ঘিরে ইতিমধ্যেই জোরদার প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে সিপিআইএমের কৃষক সংগঠন কৃষক সভা। মালদার ইংরেজবাজারে কৃষক সভার ৩৫ তম সম্মেলনে নির্বাচনী রণকৌশল নিয়েও আলোচনা হয়।


উত্তরবঙ্গ উৎসবে আবার অসহিষ্ণু মন্তব্য করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। উৎসব সূচনার ভাষণে সমালোচকদের উদ্দেশে তিনি বলেন রাজ্যে উৎসব করব না তো কি ভাগাড় করব?



দেখুন কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী--

http://zeenews.india.com/bengali/zila/cm-at-north-bengal-fest_11029.html

আজ থেকে শুরু হল উত্তরবঙ্গ উৎসব। রাজ্যে আর্থিক সঙ্কটের মধ্যে উৎসবের আধিক্য নিয়ে মুখ খুলেছেন অনেকেই। এ প্রসঙ্গে গত কালই বারুইপুরে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য বলেছিলেন, "সরকার বলছে টাকা নেই। অথচ উৎসব হচ্ছে।" নাম না করে সেই প্রসমগ টেনেই আজ মুখ্যমন্ত্রী বললেন, "গতকাল একজন বলেছেন, সরকারের টাকা নেই কিন্তু উৎসব হচ্ছে। আমি মুকুলকে বললাম বলে দিতে উৎসব করব না তো কি শ্রাদ্ধ করব?... শকুনের ভাগাড় করব?"



পাহাড় এবং তরাই-ডুয়ার্সের সংস্কৃতিকে একসূত্রে বাঁধতে গত বছর থেকে শুরু হয়েছে উত্তরবঙ্গ উত্‍সব। এবার উত্‍সবের দ্বিতীয় বছর। সোমবার শিলিগুড়ির কাঞ্চনজঙ্ঘা স্টেডিয়ামে উত্‍সবের সূচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী। এবারও রাজ্য সরকারের তরফে ১৪ জনের হাতে তুলে দেওয়া হবে বঙ্গরত্ন পুরস্কার।

সূত্রের খবর, উত্‍সব উপলক্ষ্যে প্রায় কোটি টাকা খরচ হবে। শুধু পাহাড় নয়। কোচবিহার থেকে বালুরঘাট, বিভিন্ন জায়গায় এই উত্‍সবের আয়োজন করা হয়েছে। এবারের উত্তরবঙ্গ সফরে আরও বেশ কিছু কর্মসূচি রয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর। যার মধ্যে অন্যতম, উত্তরবঙ্গ ডেন্টাল মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল এবং শিলিগুড়ি হাসপাতালে ন্যায্য মূল্যের ওষুধের দোকানের উদ্বোধন। পরদিন অর্থাত্‍ মঙ্গলবার দার্জিলিঙের উদ্দেশে রওনা দেবেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে লামাহাট পর্যটন কেন্দ্র, সংখ্যালঘু ভবন এবং বিজনবাড়ি সেতুর উদ্বোধন করবেন তিনি।


বুধবার পাটনায় আন্দোলনের নতুন ইনিংস খেলতে নামছেন আন্না হাজারে। এ দিন কৃষক আন্দোলনের সুচনা করবেন দুর্নীতি বিরোধী আন্দোলনের প্রণেতা। আগামী বছরের মধ্যে এই আন্দোলনকে উত্তর প্রদেশ, পঞ্জাব, হরিয়ানা ও কর্নাটকের মতো রাজ্যগুলিতেও ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে আন্নার। আজকের পাটনার কর্মসূচিতে প্রাক্তন সেনা প্রধান ভি কে সিং এবং প্রাক্তন টিম আন্না সদস্যা কিরণ বেদীর যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।

ভারতের গ্রামের কৃষকরা দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চনার স্বীকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন আন্না। তাঁর কথায়, "কৃষক সংগঠনকে আরও জোরদার করতে আমি দেশব্যাপী যাত্রা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।" লোকসভা নির্বাচনের আগেই রামলীলা ময়দানে আরেক দফা সত্যাগ্রহে বসবেন বলেও জানিয়েছেন আন্না। 


`ভাসভা কৃষি` পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে গিয়ে ভাগলকোটে আন্না হাজারে বলেন, "কৃষকদের প্রতিবাদকে তুলে ধরতে আমি হরিয়ানা, উত্তর প্রদেশ, পঞ্জাব এবং কর্ণাটক সফর করব।" 


ফের দাম বাড়ল বিদ্যুতের। এ বার রাজ্য বিদ্যুৎ পর্ষদ এলাকায় ১১ পয়সা এবং সিইএসসি এলাকায় ইউনিট প্রতি ৮ পয়সা দাম বাড়ল। বর্ধিত দাম কার্যকর হবে আগামী বিল থেকেই। 

দাম বৃদ্ধির পর এই মুহূর্তে ইউনিট প্রতি বিদ্যুতের দাম দাঁড়াচ্ছে ৫ টাকা ৯৩ পয়সা। এই নিয়ে গত ২০ মাসে মোট চারবার বাড়ল বিদ্যুতের দাম। কুড়ি মাসে ইউনিট প্রতি দাম বেড়েছে ১ টাকা ২২ পয়সা।


রাজ্য সরকারের আপত্তিতে  বাতিল হয়ে গেল সলমন রুশদির কলকাতা সফর। "মিডনাইটস চিলড্রেন" ছবির প্রচারে কলকাতায় আসার কথা ছিল বিতর্কিত এই সাহিত্যিকের। তবে পুলিসের তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়, রুশদির সফরে  নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা সম্ভব নয়। ফলে বাতিল করে দিতে হয় রুশদির কর্মসূচি। 

সলমন রুশদির উপন্যাসের ভিত্তিতে নির্মিত দীপা মেহেতার "মিডনাইটস চিলড্রেন" । সেই ছবির প্রচারে বুধবার কলকাতায় আসার কথা ছিল বিতর্কিত সাহিত্যিক সলমন রুশদির। তবে শেষ মূহুর্তে বেঁকে বসে রাজ্য সরকার। পুলিস-প্রশাসনের তরফে জানিয়ে দেওয়া হয় রুশদির সফরকে ঘিরে নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। ফলে বাতিল করে দিতে হয় রুশদির কর্মসূচি। এই ঘটনাকে দুর্ভাগ্যজনক বলে আখ্যা দিয়েছেন সাহিত্যিত অমিতাভ ঘোষ।

কলকাতা পুলিসের যুগ্মকমিশনার জাভেদ শামিম অবশ্য জানিয়েছেন, রুশদির কলকাতা সফরের বিষয়ে আগে থেকে কিছুই জানা ছিল না তাঁদের। স্যাটানিক ভার্সেস-য়ের লেখকের কলকাতা সফরকে কেন্দ্র করে এদিন সকাল থেকে বিক্ষোভ শুরু হয় দমদম বিমানবন্দর চত্বরে।  তবে কর্মসূচি বাতিলের পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যায় বলে খবর। 

প্রচার নিয়ে বিতর্ক দেখা দিলেও মিডনাইটস চিলড্রেনের শুরুটা ছিল সাফল্যের খতিয়ান। ১৯৮০ সালে প্রথম প্রকাশিত হয় সলমন রুশদির বহু চর্চিত এই উপন্যাস।  ১৯৮১ সালে মিডনাইটস চিলড্রেনের জন্য বুকার সম্মান ছিনিয়ে নেন রুশদি। এখানেই শেষে নয়। ১৯৯৩ সালে এই উপন্যাসের জন্যই রুশদির হাতে উঠে আসে বুকার অফ বুকারসের সম্মান। অর্থাত্ বুকার সম্মানের শুরু থেকে তিরানব্বই সাল পর্যন্ত শ্রেষ্ঠ উপন্যাস হিসেবে বিবেচিত হয় রুশদির মিডনাইটস চিলড্রেন। তবে  উপন্যাসের ভিত্তিতে বানানো ছবির প্রচারের জন্য মহানগরে পা রাখতে পারলেন না রুশদি। নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে রুশদির কলকাতা সফর বাতিল হওয়ায় হতাশ অনেকেই।

গত বছর জয়পুর সাহিত্য সভা সলমন রুশদির যোগ দেওয়া নিয়ে ব্যাপক বিক্ষোভ দেখায় কয়েকটি সংখ্যালঘু সংগঠন। সেই সময়ও তাঁর ভারত সফর বাতিল করা হয়। সরকারি সূত্রে জানান হয় লেখককে খুন করার পরিকল্পনা করছে মুম্বই আন্ডার-ওয়ার্ল্ডের একাংশ। পরে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে তাঁর বক্তৃতার সিদ্ধান্ত হলে, বিক্ষোভের জেরে তাও বাতিল করতে বাধ্য হন সভার উদ্যোক্তারা।

প্রসঙ্গত, ১৯৮৮-তে প্রকাশিত `দ্য স্যাটানিক ভার্সেস` এখনও ভারতে নিষিদ্ধ। 


দার্জিলিং: পাহাড়ে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা ও রাজ্য সরকারের সংঘাত নয়া মাত্রা পেল৷মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রীর পরে বুধবার ফের বিজনবাড়ি সেতুর উদ্বোধন করলেন মোর্চা সভাপতি বিমল গুরুং৷মঙ্গলবার ছন্দপতন৷ বুধবার সংঘাতের ইঙ্গিত দিয়ে গোর্খাল্যান্ডের দাবিতে এবার জঙ্গি আন্দোলনে নামার হুমকি দিলেন গুরুং৷ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন দমনের চেষ্টার অভিযোগ করে তিনি বলেন, গোর্খাল্যান্ডের জন্য প্রয়োজনে গুলি খেতেও রাজি তাঁরা৷ যে কোনও সময় তারা জিটিএ ছাড়তে পারে বলেও হুমকি দিয়েছে মোর্চা৷ ফলে মোর্চা-সরকার সংঘাতের জেরে ফের পাহাড় অশান্ত হয়ে উঠতে পারে।ফের বনধ-অবরোধের রাজনীতি ফিরে আসতে পারে বলেও আশঙ্কা মাথাচাড়া দিয়েছে। 
এদিন বিজনবাড়ি সেতুর উদ্বোধন করে সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা সভাপতি৷ গোর্খাল্যান্ডের দাবিতে এবার জঙ্গি আন্দোলনে নামার হুমকি দিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, মুখ্যমন্ত্রী পাহাড়ে বিভাজন তৈরি করতে চাইছেন৷ গোর্খাল্যান্ডের দাবিতে মোর্চার গণতান্ত্রিক উপায়ে চলা আন্দোলনও দমন করতে চাইছে সরকার৷ তাঁর হুমকি, এবার আর আন্দোলন গণতান্ত্রিক থাকবে না৷ গোর্খাল্যান্ডের জন্য গুলি খেতেও রাজি আমরা৷ 
মোর্চার আন্দোলনের জেরে পাহাড় ফের অশান্ত হয়ে ওঠার মতো পরিস্থিতি তৈরি হলে সেজন্য সরকারই দায়ী থাকবে বলেও রাজ্যের কোর্টে বল ঠেলেছেন মোর্চার সাধারণ সম্পাদক রোশন গিরি।সরকারের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে মোর্চার হুমকি, পরিস্থিতি তেমন দেখলে তারা জিটিএ ছাড়বে৷ মোর্চা মুখপাত্র বিনয় তামাংয়ের স্পষ্ট কথা, তাদের একটাই দাবি, গোর্খাল্যান্ড৷ তবে জঙ্গি আন্দোলনের ইঙ্গিত দিলেও তাদের আন্দোলন কর্মসূচি ঠিক কী, তা স্পষ্ট করেনি মোর্চা৷ তবে তারা যে ভাবে এদিন আন্দোলনের হুমকি দিয়েছে, তাতে পাহাড় ফের অশান্ত হয়ে ওঠার আশঙ্কা প্রবল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল৷ 
২০১১ সালের ২২ অক্টোবর বিজনবাড়ি সেতু ভেঙে পড়ে মৃত্যু হয় ৩৩ জনের৷ এরপর নতুন করে সেতুটি তৈরি হয় গতকাল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দার্জিলিংয়ের ম্যাল থেকে সেতুর উদ্বোধন করেন।


  মোর্চার অভিযোগ, পাহাড়ের নির্বাচিত গোর্খা টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (জিটিএ) –কে না জানিয়েই আচমকা মঞ্চ থেকে সেতুর উদ্বোধন করে দেন।  মোর্চার আরও অভিযোগ, নিহতদের প্রতি যথাযথ শ্রদ্ধা জানানো হয়নি৷ এরপরই তারা জানায় গুরুঙ্গ ফের ওই সেতুর উদ্বোধন করবেন।  গতকালই সেতুতে কোনও গাড়ি চলাচল না করার নির্দেশও দেওয়া হয় গুরুঙ্গদের পক্ষ থেকে।  

উল্লেখ্য, গতকালই ম্যালে দার্জিলিং উত্সবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রীর সামনেই পৃথক রাজ্যের দাবিতে বিক্ষোভ দেখান মোর্চা সমর্থকরা। গুরুঙ্গের অনুরোধ ও মমতার ধমক স্বত্বেও বিক্ষোভ বন্ধ হয়নি। পরে ওই গুরুঙ্গদের অন্ধকারে রেখে অনুষ্ঠানে জিটিএ এলাকায় মুখ্যমন্ত্রীর জমির পাট্টা বিলির বিরোধিতা করেন গুরুঙ্গ। মুখ্যমন্ত্রী পাহাড়কে বাংলার অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ বলে পাহাড়বাসীর ভাববেগকে আহত করছেন বলেও দাবি করেন গুরুঙ্গ। গতকাল পাহাড়ে যে সংঘাতের সূচনা হয়েছিল এদিনের ঘটনায় তার তীব্রতা আরও বাড়ল বলেই মনে করা হচ্ছে।

http://abpananda.newsbullet.in/state/34-more/33038-2013-01-30-04-06-22


পাইকারি ডিজেলে বিনিয়ন্ত্রণের জেরে এবার যাত্রীভাড়ার একটা অংশও বাজারের হাতে ছাড়তে চলেছে রেল৷ এবার জ্বালানি খরচ আলাদা করে ধরা হতে পারে যাত্রী ভাড়ায়৷ রেল বাজেটেই হতে পারে এই ঘোষণা৷ যাত্রীভাড়া নির্ধারণে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধে রেল ট্যারিফ রেগুলেটরি অথিরিটি গঠনের ঘোষণাও হতে পারে বাজেটে৷
আর্থিক স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধারে দশ বছর পর যাত্রী ভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেল৷ রেলমন্ত্রক নিজেদের হাতে আসার পরই, দীর্ঘদিন থমকে থাকা আর্থিক সংস্কারে হাত দিয়েছেন রেলমন্ত্রী পবন কুমার বনশল৷ যাত্রীভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্তে রেলের কোষাগারে আসার কথা প্রায় ৬৬০০ কোটি টাকা৷ চলতি আর্থিক বছরেই বাড়তি রোজগার হওয়ার কথা ১,২০০ কোটি টাকা৷ কিন্তু, রেলের এই পরিকল্পনায় বাধ সেধেছে ডিজেলে বিনিয়ন্ত্রণের সিদ্ধান্ত৷ 
ট্রেন চালাতে বছরে ২৫০ কোটি লিটার ডিজেল কিনতে হয়৷ পাইকারি ডিজেলে বিনিয়ন্ত্রত্রণের ফলে রেলকে এখন ডিজেলে লিটার প্রতি বাড়তি ১০.৮০ পয়সা দিতে হচ্ছে৷ ফলে, একধাক্কায় রেলের খরচ বেড়ে গিয়েছে ২৭০০ কোটি টাকা৷ 
মাথায় হাত রেল কর্তাদের৷ বাড়তি এই টাকা আসবে কোথা থেকে? এই পরিস্থিতিতেই দীর্ঘদিনের পুরনো একটি দাবি নিয়ে ফের শুরু আলোচনা৷ দাবি, জ্বালানি খরচ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রেলের যাত্রী ভাড়াও বাড়ানো হোক৷
রেল কর্তাদের যুক্তি, রেলকে বিনয়ন্ত্রিত হারে ডিজেল কিনতে হলে যাত্রী ভাড়ায় জ্বালানির খরচ কেন আলাদা করা হবে না? জ্বালানি খরচ বাজারের হাতেই বা ছেড়ে দেওয়া হবে না কেন? সেক্ষেত্রে ডিজেলের দাম বাড়লে যাত্রী ভাড়া বাড়বে, কমলে কমবে যাত্রী ভাড়া৷ 
আসন্ন রেল বাজেটেই যাত্রীভাড়া নির্ণয়ে নতুন ফরমুলার কথা ঘোষণা হতে পারে৷ এক্ষেত্রে যাত্রী ভাড়া নির্ণয় করা হবে এই রকম, মূল ভাড়া + জ্বালানি খরচ= প্রকৃত ভাড়া।
রেল প্রতিমন্ত্রী অধীর চৌধুরী জানিয়েছেন,রোজগার বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে৷ যাত্রী সুরক্ষা ও পরিষেবা সুনিশ্চিত করতে এছাড়া আর উপায়ই বা কী?অর্থনীতিবিদদের মতে, ঘাটতির বোঝা কমাতে এমন সিদ্ধান্ত নিতেই হবে৷
শুধু তাই নয়, মূল ভাড়া নির্ধারণের ক্ষেত্রেও আর রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ চাইছে না ইউপিএ-২ সরকার৷ গঠিত হচ্ছে রেল ট্যারিফ রেগুলেটরি অথিরিটি৷ দেশের অন্য স্বাধীন মাসুল নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলির মতোই এই ট্রেন ভাড়া নিয়ন্ত্রক সংস্থাটিও শুধুমাত্র অর্থনৈতিক প্রয়োজনের ভিত্তিতে স্বাধীনভাবে ট্রেনভাড়াও নির্ধারণ করবে৷

http://abpananda.newsbullet.in/national/60-more/32945-2013-01-27-04-33-58

  • পাহাড়ে 'হাসি' হঠাত্‍ ম্লান, সংঘাতের পথে মমতা-গুরুং



    পাহাড়ে 'হাসি' হঠাত্‍ ম্লান, সংঘাতের পথে মমতা-গুরুং
    মঙ্গলবার একমঞ্চে।
    তাপস প্রামাণিক 

    দার্জিলিং: হাসি মুছে গেল পাহাড়ে৷ 

    হাসি মিলিয়ে গেল মুখ্যমন্ত্রীর মুখ থেকেও৷ দার্জিলিঙের ম্যালে তিনি যখন ভাষণ দিচ্ছেন, তখন স্লোগান উঠল, 'উই ওয়ান্ট গোর্খাল্যান্ড৷' একবার নয়৷ দু'তিনবার৷ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাগে কাঁপতে কাঁপতে মঞ্চ থেকে নেমে আসেন৷ বহু দিন পাহাড়ে এই স্লোগান ওঠেনি৷ এ দিন মুখ্যমন্ত্রীর সামনেই উঠল৷ মঙ্গলবার বিমল গুরুং ও তাঁর সাঙ্গোপাঙ্গদের ভাবগতিক থেকে স্পষ্ট, তাঁরা মুখ্যমন্ত্রীকে অপদস্থ করতে তৈরিই ছিলেন৷
    পাহাড়ে মন জয় করতে এসে উল্টে মোর্চা সমর্থকদের হাতে বেইজ্জত হতে হল মমতাকে৷ জঙ্গলমহল ও পাহাড় নিয়ে যে গর্বের সৌধ মমতা তৈরি করেছিলেন, তার একটা অংশ যেন আচমকা ভেঙে পড়ল তাঁর চোখের সামনেই৷ বিক্ষোভ সামাল দিতে জিটিএ প্রধান বিমল গুরুং এগিয়ে এসেছিলেন৷ কিন্তু তাতে কোনও কাজ হয়নি৷ বিক্ষোভের মুখে মেজাজ হারিয়ে মুখ্যমন্ত্রী কার্যত হুমকির সুরে জানালেন, 'এটা কোনও রাজনীতি করার জায়গা নয়৷ এটা সরকারি অনুষ্ঠান৷ এমন কিছু করবেন না, যাতে ভুল বার্তা যায়৷ আমি কিন্তু এ ব্যাপারে খুব রাফ অ্যান্ড টাফ৷ আপনারা এমন করলে উন্নয়ন থমকে যাবে৷' মোর্চা যে তৃণমূলের সঙ্গে সংঘাতের পথেই যাচ্ছে তার প্রমাণ, আজ, বুধবার মুখ্যমন্ত্রীকে ছাড়াই বিজনবাড়ি সেতুর উদ্বোধন করবেন বিমল গুরুং৷ এই সেতুর উদ্বোধন করার কথা ছিল মমতার৷ এ দিন ম্যাল থেকে তিনি সেই সেতুর প্রতীকী উদ্বোধনও করেন৷ কিন্তু আগামিকাল আনুষ্ঠানিক ভাবে মমতাকে ছাড়াই সেতুর উদ্বোধন করবেন বিমল গুরুং৷ মমতার ক্ষমতায় আসার কয়েক দিন পরেই বিজনবাড়ি সেতু ভেঙে ৩৩ জনের মৃত্যু হয়৷ সমবেদনা জানাতে মমতা ছুটেও গিয়েছিলেন বিজনবাড়িতে৷

    মঙ্গলবার দার্জিলিং ম্যালে উত্তরবঙ্গ উত্‍সবের একদিনের অনুষ্ঠান ছিল৷ সেই অনুষ্ঠানে পাট্টা বিলি-সহ একাধিক কর্মসূচি ঘোষণা করতে এসেছিলেন মমতা৷ ম্যাল চৌরাস্তায় মুখ্যমন্ত্রীর অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন কুল্যে শ'পাঁচেক মানুষ৷ অধিকাংশই মহিলা৷ আয়োজনের ঘাটতি ছিল না৷ মমতার সঙ্গে গায়ক-গায়িকারা ছিলেন৷ তাল কাটল বিমল গুরুং মঞ্চে ভাষণ শুরু করার পর৷ তত ক্ষণে অবশ্য দশ জনকে পাট্টা বিলি হয়ে গিয়েছে৷ গুরুং বললেন, 'আজকের দিনটা ঐতিহাসিক৷ জিটিএ এলাকার মধ্যে পাট্টা বিলি হচ্ছে৷ অথচ কারা পাবেন, আমি কিছুই জানি না৷ আমরা নির্বাচিত প্রতিনিধি, অথচ আমাদেরই অন্ধকারে রাখা হচ্ছে৷ এতে আমরা অপমানিত৷ আমি পদত্যাগও করতে চেয়েছিলাম৷' 

    হঠাত্‍ই এই ছন্দপতনে উত্‍সবের আমেজ পাল্টে যায়৷ মুখ্যমন্ত্রীর মুখে তখন উত্‍কণ্ঠা ও উদ্বেগের ছায়া৷ গুরুং বলছিলেন নেপালি ভাষায়৷ মমতা বিষয়টি পুরোপুরি ঠাওর করতে পারেননি৷ তবে গুরুংয়ের মুখে ক্ষোভের আঁচ দেখতে পেয়েছিলেন৷ তার পরই মুকুল রায়ের সঙ্গে মঞ্চে তাঁকে একান্তে কথা বলতে দেখা যায়৷ মুকুলের কাছ থেকে মমতা বোঝার চেষ্টা করেন, গুরুং ঠিক কী বলছেন৷ মুকুল কিছু একটা বোঝান৷ কিন্তু তাতে সন্তুষ্ট হননি মমতা৷ তিনি স্থানীয় ঘোষককে ডেকে পাঠান৷ নেপালি ঘোষক গুরুংয়ের বক্তব্য বাংলায় তর্জমা করে দেন মুখ্যমন্ত্রীকে৷ তার পরই মুখ্যমন্ত্রী বক্তব্য পেশ করতে গিয়ে গত দু'বছরে পাহাড়ে কী পরিবর্তন হয়েছে, তার ফিরিস্তি তুলে ধরে বলেন, 'গত ১০-২০ বছর পাহাড়ে কোনও কাজ হয়নি৷ আমি কিন্তু দার্জিলিং ক্যাপচার করতে আসিনি৷ দার্জিলিং বাংলার অবিচ্ছেদ্দ অঙ্গ৷ এখন কত লোক আসছে, হোটেলে জায়গা হচ্ছে না৷ লোলেগাঁও, সান্দাকফু, কার্শিয়াং সব জায়গাতেই উন্নয়নের কাজ শুরু হয়েছে৷ দার্জিলিংকে আমি ভায়ের চোখে দেখি, বোনের চোখে দেখি৷ আপনারা শুনলে হয়তো অবাক হবেন, আমি দার্জিলিং নিয়ে কবিতা লিখেছি৷ আপনারা বাংলা পড়তে পারেন না তো, তাই হয়তো পড়তে পারেননি৷' দিল্লিকে কিছু করছে না বলেও কেন্দ্রের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন তিনি৷ পাহাড়ে কী ধরনের উন্নয়নের কাজ হচ্ছে, তা বোঝাতে গিয়ে একগুচ্ছ প্রকল্পের কথা শোনান মমতা৷ এর মধ্যে রয়েছে তিস্তায় জলবিদ্যুত্‍ প্রকল্প, গ্রামীণ বিদ্যুদয়নে ১১৭ কোটি টাকা বরাদ্দ, দার্জিলিং জেলা সদর হাসপাতালের উন্নয়ন-সহ একাধিক উন্নয়ন কর্মসূচি৷ তিনি বলেন, 'আপনাদের কাছে করজোড়ে প্রার্থনা করছি, অনেক কষ্ট করে এত লোককে দার্জিলিঙে নিয়ে এসেছি৷ দার্জিলিং ভালো থাকলে আপনাদের ভালো হবে৷ ভাইবোনেদের ভালো হবে৷' তার পরই মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 'কিছু দিন ধরে কিছু কথা শুনছি৷ আপনারা দয়া করে শান্ত থাকুন৷' 

    কিন্তু এ-সব কথায় চিঁড়ে ভেজেনি৷ মুখ্যমন্ত্রী দার্জিলিংকে বাংলার অবিচ্ছেদ্দ অঙ্গ বলায় আগুনে ঘি পড়ে৷ দর্শকদের মধ্যে থেকে মোর্চা সমর্থকেরা আওয়াজ তোলেন, 'উই ওয়ান্ট গোর্খাল্যান্ড৷' হতবাক মুখ্যমন্ত্রী কথা বন্ধ করে নিজের চেয়ারে বসে পড়েন৷ বিমল গুরুং জনতাকে শান্ত হতে বলেন৷ মুখ্যমন্ত্রী বলতেও শুরু করেন৷ কিছুক্ষণ শান্ত থাকার পর আবার আওয়াজ ওঠে, 'উই ওয়ান্ট গোর্খাল্যান্ড৷' এর পর মুখ্যমন্ত্রী রাগে কাঁপতে কাঁপতে মঞ্চ থেকে নেমে আসেন৷ বিমল গুরুংকে পাশে বসিয়ে মঞ্চের অনুষ্ঠান দেখলেও দু'জনের মধ্যে কোনও বাক্যালাপ হয়নি৷ এক সময় মুখ্যমন্ত্রী বিমল গুরুংয়ের সঙ্গে সৌজন্য বিনিময় না-করেই আচমকা উঠে চলে যান৷ 

    মুখ্যমন্ত্রী বিদায় নেওয়ার পরই ম্যালের পাশেই একটি রেস্তোরাঁয় মোর্চার শীর্ষ নেতারা রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বসেন৷ সেখান থেকে বেরিয়ে এসে বিমল গুরুং সাংবাদিকদের বলেন, 'মুখ্যমন্ত্রী যদি সব করে দেন, আমরা তা হলে কী করব৷ পাট্টা বিলির কাজ তো পঞ্চায়েত করে৷ এত ছোট জিনিসের উদ্বোধন এর আগে কোনও মুখ্যমন্ত্রী করেননি৷ এর জন্যই আমি আজকের দিনকে ঐতিহাসিক বলছি৷' এর পরেই মোবাইলের এসএমএস দেখিয়ে তিনি বলেন, 'উত্তরবঙ্গে উত্‍সবে আমাকে এসএমএস করে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন জিটিএ-র প্রিন্সিপ্যাল সেক্রেটারি সৌমিত্র মোহন৷ আমি জিটিএ-র চেয়ারম্যান৷ অথচ আমাকেই আমন্ত্রণ জানিয়েছেন জিটিএ-র নামে৷ জিটিএ-র প্রিন্সিপ্যাল সেক্রেটারিকে অবিলম্বে সরাতে হবে৷ জিটিএ-তে আমরা থাকব কি না, সেটা দলের বৈঠকে ঠিক হবে৷ দার্জিলিং এখন শান্ত৷ বাংলার আমলারাই অশান্তি পাকানোর চেষ্টা করছেন৷' 

    মুখ্যমন্ত্রী রাজনীতি করার অভিযোগ তুললেও তা খারিজ করে দিয়েছেন বিমল গুরুং৷ তাঁর পাল্টা অভিযোগ, 'পৃথক গোর্খাল্যান্ড রাজ্যের দাবি ১০৫-১০৬ বছরের পুরনো৷ উনি তো মা-মাটি-মানুষের কথা বলেন৷ গোর্খাল্যান্ড তো মানুষেরই দাবি৷ উনি অনুষ্ঠান মঞ্চে দার্জিলিংকে বাংলার অবিচ্ছেদ্দ অঙ্গ বলে পাহাড়ের মানুষের ভাবাবেগে আঘাত করেছেন৷ মুখ্যমন্ত্রীই প্রথম রাজনীতি করেছেন৷' 

    পাহাড়ের পরিবেশ যে ক্রমশ উত্তপ্ত হচ্ছে, তার আভাস বেশ কিছু দিন ধরেই পাওয়া যাচ্ছিল৷ মুখ্যমন্ত্রী পাহাড়ে পা রাখার একদিন আগেই জনমুক্তি মোর্চার নেতারা পৃথক গোর্খাল্যান্ডের দাবি তুলে দিল্লিতে ধর্নায় বসেন৷ দিল্লি উড়ে যাওয়ার জন্য মোর্চা নেতা বিমল গুরুংও শিলিগুড়ি পৌঁছে গিয়েছিলেন৷ তবে মুখ্যমন্ত্রীর সম্মান রক্ষায় শেষ পর্যন্ত তিনি দার্জিলিংয়ে উত্তরবঙ্গ উত্‍সবে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন৷ কিন্ত্ত সেই অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকেই মুখ্যমন্ত্রীকে অপমান করে ছাড়লেন বিমল গুরুংয়ের অনুগামীরা৷ 

    'মাওবাদী' সন্দেহে ধৃতকে নিয়ে রিপোর্ট তলব কোর্টের



    ঝাড়গ্রাম: পুলিশ হেফাজতে থাকা 'মাওবাদী' সন্দেহে ধৃতকে সাংবাদিক বৈঠকে হাজির করে বিতর্কে জড়িয়েছিলেন ঝাড়গ্রামের পুলিশ সুপার৷ এতে ক্ষুব্ধ ঝাড়গ্রামের সহকারী বিচারবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেটের আদালত ওই মামলায় পুলিশের তদন্তকারী অফিসারের রিপোর্ট তলব করেছিল সোমবারই৷ ওই আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক সুপর্ণা রায় তদন্তকারী অফিসার বিনপুর থানার সাব-ইন্সপেক্টর মিলনকান্তি ঘোষকে মঙ্গলবারের মধ্যে এ ব্যাপারে আদালতের কাছে জবাবদিহি করার নির্দেশ দিয়েছিলেন৷ মিলনবাবু অবশ্য এ দিন অসুস্থতার কারণে আদালতে যেতে পারেননি৷ তাঁর পরিবর্তে বিনপুর থানার আইসি সুমন চ‌ট্টোপাধ্যায় একটি দরখাস্ত দিয়ে আদালতকে মিলনবাবুর অসুস্থতার খবর জানান৷ এতে তাঁকে আরও সময় দেওয়ার অনুরোধ করেছেন সরকারি কৌঁসুলি৷ বিচারক ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময় দিয়েছেন৷ 

    গত ২২ জানুয়ারি 'এই সময়'-এ প্রকাশিত হয়েছিল ওই সাংবাদিক বৈঠকের খবর৷ ১৮ জানুয়ারি পশ্চিম মেদিনীপুরের বিনপুরের ভুরসাতোড়ার বাসিন্দা অভিজিত্ মাহাতো নামে এক প্রৌঢ়কে 'মাওবাদী' সন্দেহে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ৷ বিচারক তাঁকে পাঁচ দিন পুলিশি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন৷ ওই সময়কালের মধ্যেই গত ২১ জানুয়ারি এক সাংবাদিক বৈঠকে অভিজিত্‍বাবুকে হাজির করেন ঝাড়গ্রামের এসপি ভারতী ঘোষ৷ তাঁর দাবি ছিল, মাওবাদী দলের কালিয়াম স্কোয়াডের সক্রিয় সদস্য অভিজিত্‍৷ কিন্ত্ত পুলিশের পদস্থ আধিকারিক ও সাংবাদিকদের সামনেই অভিজিত্বাবু বলে বসেন, 'আমি মাওবাদী নই৷ আমি কোনও স্কোয়াডে নেই৷ চাষবাস করি আর ঝাড়খণ্ড পার্টির নরেন হাঁসদা গোষ্ঠার কর্মী৷ আমার নামে কিছু মামলা আছে ঠিকই৷ কিন্ত্ত তার সঙ্গে মাওবাদীদের কোনও সংযোগ নেই৷' ফলে প্রশ্ন উঠে যায় পুলিশি তদন্ত ও এসপি-র বিবৃতির বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েই৷ 

    এর পরে ২৪ জানুয়ারি 'এই সময়'-এর কাটিং ও সাংবাদিক বৈঠকের ভিডিও টেপ-সহ অভিযুক্তের আইনজীবী সুমন সেন আদালতে অভিযোগ করে বলেন, 'নিয়মবিরুদ্ধ ভাবে পুলিশি হেফাজতে থাকা বন্দিকে সংবাদমাধ্যমের সামনে এগিয়ে দিয়েছে পুলিশ৷ ওঁকে সংবাদমাধ্যমের সামনে মাওবাদী বলে প্রমাণ করার চেষ্টা করেছে৷ আদালতের নির্দেশে পুলিশি হেফাজতে থাকা কোনও অভিযুক্তকে এই ভাবে সাংবাদিক বৈঠকে আনা সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরিপন্থী৷' এই অভিযোগের ভিত্তিতেই বিচারক মিলনবাবুকে কারণ দর্শাতে বলেছেন৷ 

    পিঠ বাঁচাতেই ভোল বদল মোর্চার



    পিঠ বাঁচাতেই ভোল বদল মোর্চার
    এই সময়: তাঁর সরকারের বয়স ২০ মাস৷ এই স্বল্প মেয়াদে মঙ্গলবার ছিল পাহাড়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অষ্টম সফর৷ দার্জিলিংয়ের মানুষ যাঁকে প্রকৃতই পাহাড়প্রেমী মুখ্যমন্ত্রী মনে করতেন৷ প্রয়াত সিদ্ধার্থশঙ্কর রায়েরও এই রেকর্ড নেই৷ কিন্ত্ত আগের সাতটির তুলনায় মমতার এই সফর ছিল দৃশ্যতই সম্পূর্ণ ভিন্ন৷ আগের সফরগুলিতে শিলিগুড়ির সীমা পেরোনোর পরই পাহাড়ের পথে মমতার জন্য থাকত শুভেচ্ছা তোরণ৷ তাতে জ্বলজ্বল করত 'মুখ্যমন্ত্রী লাই হামরো তরা বরা হার্দিক স্বাগত ছ', অর্থাত্‍ 'মুখ্যমন্ত্রী স্বাগতম'৷ এমনই এক সফরে মমতাকে 'পাহাড়ের মা' বলে সম্বোধন করেছিলেন গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার নেতা বিমল গুরুং৷ সেই পাহাড়কে এ দিন অন্য চেহারায় দেখলেন মমতা৷ যেখানে শুভেচ্ছা তোরণ তো দূরের কথা, সরকারি অনুষ্ঠানে গুটিকয়েক লোক এবং তাঁরা গোর্খাল্যান্ডের দাবিতে এমন হইচই বাধিয়ে দিলেন যে, ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী একসময় মঞ্চ ছেড়ে নেমেই গেলেন৷ 

    সমতলের নেতাদের এমন অভিজ্ঞতা অবশ্য নতুন নয়৷ ২৭ বছর আগের এক জনসভার কথা পাহাড়বাসী আজও ভোলেননি৷ বক্তা ছিলেন রাজীব গান্ধী ও জ্যোতি বসু৷ এক জন তখন দেশের প্রধানমন্ত্রী, অন্য জন এ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী৷ দার্জিলিংয়ের লেবং হেলিপ্যাডে তাঁদের সভায় সেদিন নিরাপত্তারক্ষী ছাড়া শ্রোতা হাতে গোনা মাত্র কয়েকজন৷ দার্জিলিংয়ে তখন শেষ কথা সুবাস ঘিসিং৷ তাঁর হুকুমেই পাহাড়বাসী সেদিন এড়িয়ে গিয়েছিল সমতলের দুই নেতাকে৷ সেই অপমানজনক অধ্যায়ের পরও ঘিসিংকে তাঁরা উপহার দিয়েছিলেন দার্জিলিং গোর্খা পার্বত্য পরিষদ (ডিজিএইচসি)৷ 

    মঙ্গলবার সেই দার্জিলিংয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভায় যখন গোর্খাল্যান্ডের দাবিতে উপস্থিত জনতার একাংশ সরব হয়, মঞ্চে তখন উপবিষ্ট গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (জিটিএ)-এর প্রধান গুরুং৷ ২৭ বছরের ব্যবধানের এই ঘটনা দু'টির দ্বিতীয়টি নিঃসন্দেহে বেশি অস্বস্তির এবং এর রাজনৈতিক তাত্‍পর্যও অনেক৷ অনুষ্ঠান মঞ্চে এবং পরে বিমল গুরুংয়ের বক্তব্য ও পাহাড়ের ঘটনাবলি থেকে ফের স্পষ্ট, গোর্খাল্যান্ডের দাবি আদায়ে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার আসলে দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গিয়েছে৷ গুরুং এ দিন জিটিএ এবং তাঁকে প্রাপ্য মর্যাদা ও ক্ষমতা না-দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন৷ কিন্তু এই অভিযোগ নতুন নয়৷ ২০১১-এর জুনে জিটিএ চুক্তি হওয়ার পর থেকেই মোর্চা এই অভিযোগ করে আসছে৷ তা হলে পাহাড় সফরে যাওয়া মুখ্যমন্ত্রীকে পাশে বসিয়ে এমন অসম্মান করলেন কেন? 

    মোর্চা এবং প্রশাসনিক মহলের খবর, এর পিছনে আছে পাহাড়ে মোর্চার রাজনৈতিক অস্তিত্ব রক্ষার তাগিদ৷ গোর্খাল্যান্ডের পরিবর্তে জিটিএ মেনে নেওয়ায় পাহাড়ের সাধারণ মানুষ তো বটেই, মোর্চার একাংশের মধ্যেও ক্ষোভের আগুন জ্বলছিল৷ তাতে নতুন মাত্রা দেয় রাজ্য প্রশাসনের একাংশের ক্ষমতা হস্তান্তরে অনীহা এবং প্রতিশ্রুত অর্থ না পাওয়া, যা মোর্চার সাংগঠনিক অস্তিত্বকেও সংকটে ফেলেছে৷ কারণ, সেখানে যেটুকু অর্থ যায় তা কেবল সরকারি প্রকল্পের সুবাদেই৷ প্রাপ্য অর্থ না-যাওয়ায় পছন্দের ঠিকাদারকে কাজের বরাত এবং প্রকল্পে নিজেদের লোকজনকে কাজের সুযোগ করে দেওয়া সম্ভব হচ্ছিল না মোর্চা নেতাদের পক্ষে৷ 

    ক্ষোভের আগুনে ঘি ঢেলেছে তেলেঙ্গানা ইস্যু৷ সিপিআরএম, গোর্খা লিগ-সহ মোর্চা বিরোধী পাহাড়ের গোর্খাল্যান্ড সমর্থক দলগুলি পৃথক তেলেঙ্গানা রাজ্য কেন্দ্র মেনে নিচ্ছে বলে ধুয়ো তুলে আন্দোলনে নামার ভাবনাচিন্তা শুরু করেছিল৷ সেই খবর পেতেই মোর্চা তাদের পালের হাওয়া কাড়তে গোর্খাল্যান্ড নিয়ে ফের পথে নেমেছে৷ 

    এই দাবি আদায়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছ থেকে যে তাদের আর কিছুই পাওয়ার নেই, তা বুঝেই দিল্লি পাড়ি দিয়েছেন মোর্চার শীর্ষ নেতৃত্ব৷ সোমবারই তেলেঙ্গানা ইস্যুতে কেন্দ্র চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে বলে ঠিক ছিল৷ তা পিছিয়ে যাওয়ায় মোর্চা প্রধান বিমল গুরুং নিজে আর দিল্লি পাড়ি দেননি৷ যদিও মঙ্গলবারের ঘটনার আগে পর্যন্ত অনেকের ধারণা ছিল, গুরুং মুখ্যমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতেই দার্জিলিংয়ে থেকে গিয়েছেন৷ কিন্তু এ দিনের ঘটনায় স্পষ্ট, মোর্চার মতলব অন্য ছিল৷ পাহাড় সফরেই মুখ্যমন্ত্রীকে গোর্খাল্যান্ডের দাবিতে তিতিবিরক্ত করে গুরুংরা আসলে এক ঢিলে দুই পাখি মারতে চেয়েছেন৷ এক দিকে মোর্চা বুঝিয়ে দিয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী দার্জিলিংকে যতই পশ্চিমবঙ্গের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ বলে দাবি করুন না কেন, গোর্খাল্যান্ড ছাড়া পাহাড়বাসী দমবে না৷ আর সেই দাবি আদায়ে মোর্চাই থাকবে অগ্রণী ভূমিকায়৷ অন্য দিকে, সংঘাতের পথে গিয়ে ভবিষ্যত্‍ রাজনৈতিক সমীকরণের রাস্তা খোলা রাখলেন গুরুংরা৷ 

    এ দিনই দিল্লিতে মোর্চা নেতারা বিজেপি'র প্রবীণ নেতা লালকৃষ্ণ আডবানির সঙ্গে দেখা করেছেন৷ সোমবারই বিজেপি জানিয়ে দিয়েছিল, কেন্দ্রে ক্ষমতায় এলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পৃথক গোর্খাল্যান্ড রাজ্য করে দেবে তারা৷ স্বভাবতই আডবানির সঙ্গে মোর্চার সাধারণ সম্পাদক রোশন গিরির বৈঠক এ দিন অন্য মাত্রা পেয়েছে৷ গত লোকসভা ভোটে দার্জিলিং থেকে মোর্চার সমর্থনে জিতেছেন বিজেপি'র যশোবন্ত সিং৷ মোর্চা-বিজেপি সম্পর্ক তাই নতুন নয়৷ সাবধানী আডবানি অবশ্য মোর্চা নেতাদের জানিয়েছেন, কাগজপত্র দেখে তিনি গোর্খাল্যান্ড নিয়ে মন্তব্য করবেন৷ 

    ফের গাফিলতি, কৃষক আত্মহত্যা নিয়ে এখনও হলফনামা দাখিল করেনি রাজ্য

    নিজস্ব প্রতিনিধি: কলকাতা, ২৯শে জানুয়ারি—কলকাতা হাইকোর্টের তিন-তিনবার নির্দেশের পরেও কৃষক আত্মহত্যা নিয়ে হলফনামা দাখিল করে উঠতে পারলো না রাজ্য সরকার!

    রাজ্যে কৃষিজীবী মানুষের সঙ্কট ও কৃষক আত্মহত্যার মত উদ্বেগজনক ঘটনা নিয়ে তৃণমূল সরকারের মনোভাবই কি গড়িমসির কারণ? উঠতে শুরু করেছে সে প্রশ্নও। নিদারুণ পরিসংখ্যান বলছে, গত আঠারো মাসে এরাজ্যের গ্রামাঞ্চলে ৭৮জন কৃষক, খেতমজুর ফসলে মার খেয়ে, দেনার দায়ে আত্মঘাতী হয়েছেন। কৃষক আত্মহত্যার কথা স্বীকার করতেও চাইছে না সরকার। পশ্চিমবঙ্গের মত কৃষিপ্রধান রাজ্যে গ্রামাঞ্চলে এই সঙ্কট নিয়েও সরকার কার্যত উদাসীন। তা এমন মাত্রাতেই যে খোদ কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি অরুণ মিশ্র ও জয়মাল্য বাগচীকে নিয়ে গঠিত ডিভিসন বেঞ্চ নির্দেশ দেওয়ার পরেও হলফনামা জমা দিতে পারলো না সরকারপক্ষ।

    কৃষক আত্মহত্যা মামলার শুনানিতে আগেই হলফনামা জমা দেওয়ার কথা ছিল রাজ্য সরকারের। কিন্তু রাজ্য সরকার হলফনামা জমা না দেওয়ায় মঙ্গলবার কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি অরুণ মিশ্র ও জয়মাল্য বাগচীকে নিয়ে গঠিত ডিভিসন বেঞ্চ আরও একবার সুযোগ দেয় সরকারপক্ষকে। এদিন মামলার শুনানি শেষে সরকারী আইনজীবীকে ডিভিসন বেঞ্চ নির্দেশ দেয় আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে কৃষক আত্মহত্যা নিয়ে হলফনামা জমা দিতে হবে।আবেদনকারী পক্ষকে তার এক সপ্তাহের মধ্যে বক্তব্য জানাতে হবে। চার সপ্তাহ পরে এই মামলার ফের শুনানি হবে। 

    রাজ্যে একের পর এক কৃষক আত্মহত্যার ঘটনায় গত বছরের জুলাই মাসে কলকাতা হাইকোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করা হয়। মূল আবেদনকারী কলকাতা হাইকোর্টের আইনজীবী অনিন্দ্যসুন্দর দাস। মামলার এই আবেদনে বলা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে কৃষক আত্মহত্যার কারণ খতিয়ে দেখা ও তা রোধ করতে স্বামীনাথন কমিশনের মতোই কেন্দ্রীয় সরকারকে একটি পৃথক কমিশন নিযুক্ত করতে হবে। রাজ্যে আত্মঘাতী কৃষকের পরিবারকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে রাজ্য সরকারকে। বীজ ও সার ভরতুকি দিয়ে সরবরাহ করতে হবে এবং সহায়ক মূল্য দিয়ে সরাসরি কৃষকের কাছে ফসল কেনা নিশ্চিত করতে হবে।

    রাজ্য সরকারের ভ্রান্ত নীতিতেই যে এরাজ্যে কৃষক ফসল উৎপাদন করেও ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তা আবেদনে বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। সহায়ক মূল্যের থেকে অনেক কম দামে কৃষককে ফড়েদের কাছে বিক্রি করতে হচ্ছে। কৃষকরা ফড়েদের কাছে অভাবী বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। তার মধ্যে কৃষককে বলা হয়েছে চালকল ছাড়া কোথাও ধান বিক্রি করা যাবে না। সমস্যা বাড়ছেই। বামফ্রন্ট সরকার অবশ্য ধান সংগ্রহের কাজটিতে যুক্ত করেছিল স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলিকে।

    গত বছরের ১৩ই জুলাই জনস্বার্থ মামলার আবেদনের ভিত্তিতে শুক্রবার কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি জে এন প্যাটেল ও বিচারপতি সম্বুদ্ধ চক্রবর্তীর ডিভিসন বেঞ্চ রাজ্য সরকারকে নির্দেশ দেয় পশ্চিমবঙ্গে কৃষক আত্মহত্যা নিয়ে তিন সপ্তাহের মধ্যে আদালতে হলফনামা জমা দিতে হবে।সে তিন সপ্তাহ পেরিয়ে যায় অনেক দিন আগেই। এরপরে আবার গত ২০শে ডিসেম্বর কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি অরুণ মিশ্র এবং জয়মাল্য বাগচীর ডিভিসন বেঞ্চ নির্দেশ দেয় ২৯শে জানুয়ারির মধ্যে রাজ্য সরকারকে হলফনামা জমা দিতে হবে। 

    এদিনই ছিল সেই শুনানি। রাজ্য সরকারের আইনজীবী উপস্থিত থাকলেও হলফনামা জমা দিতে পারেনি সরকার। শুনানিতে অংশ আবেদনকারীর পক্ষে আইনজীবী বিকাশ ভট্টাচার্য এদিন বলেন, যখন এই জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছিল তখন রাজ্যে কৃষক আত্মহত্যার সংখ্যা ছিল ৩৩। এখন তা পৌঁছেছে ৭৮। তবুও সরকারের তরফে কোনরকম উদ্যোগ, প্রতিক্রিয়া চোখে পড়ছে না।

    সরকারের এই মনোভাবেরই স্পষ্ট, বারে বারে সময় দেওয়া হলেও এরকম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে গড়িমসি করা হচ্ছে। বিকাশ ভট্টাচার্য ছাড়াও এদিন আবেদনকারীর পক্ষে মামলায় অংশগ্রহণ করেন আইনজীবী রবিশঙ্কর চ্যাটার্জি ও উদয়শঙ্কর চ্যাটার্জি।

    http://ganashakti.com/bengali/breaking_news_details.php?newsid=1031

    রাজ্যে আক্রান্ত সর্বস্তরের মানুষ,
    চাই ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ : সেন

    নিজস্ব সংবাদদাতা

    শ্যামনগর, ২৯শে জানুয়ারি— রাজ্যের বর্তমান শাসক দল মানুষের গণতন্ত্র, গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নিতে চাইছে। রাজ্যে শিক্ষক, অধ্যাপক, সাংবাদিক থেকে সমস্ত স্তরের মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন। গণতন্ত্র রক্ষার সংগ্রামকে জোরদার করতে মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করতে আমাদের উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। একথা বলেন সি পি আই (এম) পলিট ব্যুরোর সদস্য নিরুপম সেন। মঙ্গলবার শ্যামনগর যুগের প্রতীক ক্লাবের পাশে বিদ্যুৎ গাঙ্গুলি মঞ্চে সত্তর দশকসহ বিভিন্ন সময়ে তেরোজন শহীদ কমরেডদের শ্রদ্ধায় স্মরণ করে এই অঞ্চলের মানুষ। সি পি আই (এম) ভাটপাড়া-জগদ্দল জোনাল কমিটির উদ্যোগে এই শহীদ স্মরণ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

    তিনি বলেন, তৃণমূল দলে কোনো গণতন্ত্র আছে কি? এই দলেই তো গণতন্ত্র নেই। যে দলে গণতন্ত্র নেই, সেই দল গণতন্ত্রকে মর্যাদা দেবে কি করে? এটা কি সত্যিই কোনো রাজনৈতিক দল? এই দলের নীতি কি? এদের আদর্শ কি? কোন্‌ নীতি নিয়ে এরা রাজ্যটা চালাতে চায়। তার কোনো সঠিক দিশা নেই। এই দল রাজ্যে ক্ষমতা দখল করতে সমস্ত বিচ্ছিন্নতাবাদী শক্তির সাথে হাত মিলিয়েছিলো। একটা অশুভ আঁতাত এরা রাজ্যে গড়ে তুলেছিলো। একদিকে মাওবাদী ও অন্যদিকে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চাসহ রাজ্যের সমস্ত প্রতিক্রিয়াশীল, বিচ্ছিন্নতাবাদী শক্তির সাথে আঁতাত গড়ে তুলেছিলো তৃণমূল। নীতিহীন, আদর্শহীন, সুবিধাবাদী রাজনৈতিক দলের জ্বলন্ত উদাহরণ হচ্ছে তৃণমূল। এই দল কখনওই রাজ্যের মানুষের উন্নয়ন করতে পারে না।

    তিনি বলেন গত দেড় বছরে রাজ্যের অবস্থাটা কি? এই রাজ্যের সত্যি কি কোনো পরিবর্তন হয়েছে? রাজ্যের মানুষের কাছে পরিবর্তন চেয়ে তৃণমূল ভোট চেয়েছিলো। কিন্তু পরিবর্তনের ভয়াবহ চিত্রটা আজ মানুষের সামনে প্রতি মুহূর্তে ফুটে উঠছে। গত দেড় বছরে দেড়শজন মহিলা ধর্ষিতা হয়েছে আড়াই হাজার মহিলাদের ওপর নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে। আটাত্তর জন কৃষক আত্মহত্যা করেছে। সাতাশ হাজার বর্গাদার তাদের বর্গা থেকে উৎখাত হয়েছেন। রাজ্যজুড়ে একটা চরম নৈরাজ্য চলছে। রাজ্যের শাসক দলের মদতে স্কুল, কলেজের ফেল করা ছাত্ররা পাস করানোর দাবিতে প্রধানশিক্ষক ও অধ্যক্ষদের ঘেরাও করছে। সত্তর দশকে আমরা গণটোকাটুকির ঘটনা প্রত্যক্ষ করেছি। রাজ্যে এই পরিবর্তন হয়েছে। আমরা কি এই পরিবর্তন চেয়েছিলাম?

    তিনি বলেন, তৃণমূল প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলো রাজ্যে ক্ষমতায় আসলে বন্ধ কলকারখানা খুলে দেবে। দশ লক্ষ বেকারের চাকরি দেবে। বন্ধ কারখানার জমিতে শিল্প গড়বে। কিন্তু আমি মুখ্যমন্ত্রীকে প্রশ্ন করি? গত দেড় বছরে এ রাজ্যে কটা বন্ধ কলকারখানা খোলার জন্য আপনি উদ্যোগ নিয়েছেন? বন্ধ কলকারখানার জমিতে শিল্প গড়বেন। কিন্তু বারাকপুর শিল্পাঞ্চলে বন্ধ কলকারখানার কটা জমিতে শিল্প গড়ার উদ্যোগ নিয়েছেন? মুখ্যমন্ত্রী বলছেন উৎসব করাটা শিল্প। এই শিল্পাঞ্চলে ভুখা শ্রমিকদের কাছে উৎসবের কোনো মূল্য আছে কি? উৎসব, মেলা, গান-বাজনা, ক্লাবকে টাকা দেওয়া এটাই মুখ্যমন্ত্রীর কাছে অগ্রাধিকার পাচ্ছে। রাজ্যের কোনো শিল্পনীতি নেই। এরা কোনো শিল্পনীতি ঘোষণা করতে পারেনি। আমরা তো চেয়েছিলাম রাজ্যে শিল্প‍‌ হোক। সিঙ্গুর থেকে যে ভাবে টাটাকে চলে যেতে বাধ্য করলো বর্তমান শাসকদল, তা একেবারে অবাঞ্ছিত। মুখ্যমন্ত্রী‍‌ হওয়ার পর মমতা ব্যানার্জি গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার সাথে চুক্তি করলো। এই চুক্তির মধ্যেই গোর্খাল্যান্ডের বীজ অন্তর্নিহিত আছে। দার্জিলিঙ-এ মুখ্যমন্ত্রী বিমল গুরুংকে পাশে বসিয়ে সভা করছেন। আর দিল্লিতে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার নেতা বি জে পি-র সাথে সভা করছেন। রাজ্যের শ্রমজীবী মানুষের ঐক্যকে ভাঙতে তৃণমূল অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছে। 

    সি পি আই (এম) রাজ্য কমিটির সদস্য তড়িৎ তোপদার বলেন, গণতন্ত্র রক্ষার সংগ্রামকে শক্তিশালী ও জোরদার করতে আমাদের আবার মানুষকে ঐক্যবন্ধ করতে হবে।

    সি পি আই (এম) রাজ্য কমিটির সদস্য নেপালদেব ভট্টাচার্য বলেন, মানুষের সাথে নিবিড় যোগাযোগ গড়ে তুলতে পারলেই আজকের শহীদ স্মরণ সমাবেশ সার্থক হবে। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন জোনাল কমিটির সম্পাদক রামপ্রসাদ কুণ্ডু, কমল বিশ্বাসসহ প্রমুখ।

    http://ganashakti.com/bengali/news_details.php?newsid=35224


    পাহাড়ে ক্ষোভের মুখে মুখ্যমন্ত্রী, বক্তব্যের 
    মাঝেই ঘনঘন স্লোগান গোর্খাল্যান্ডের

    দীপক হোড়রায়

    দার্জিলিঙ, ২৯শে জানুয়ারি—বদলে গেল পাহাড়ের ছবি। ক্ষোভের মুখে পড়ে বক্তব্য শেষের পরেও মাইক হাতে নিয়ে কার্যত হুমকি দিতে হলো মুখ্যমন্ত্রীকে। ক্ষোভের মুখে তাঁর হুমকি ''আমি এসব বিষয়ে খুব রাফ অ্যান্ড টাফ।'' শুধু তাই নয়, অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার আগেই সভামঞ্চ ছাড়তে হলো তাঁকে। এমনকি পাহাড় থেকে নেমে আসার পথেই বিরোধী পোস্টারও চোখে পড়লো তাঁর। ক্ষোভের উত্তাপ এমনই বাড়ছে যে এদিন মোর্চার প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক নির্ধারিত থাকলেও মুখ্যমন্ত্রী বৈঠকে না বসে সটান চলে যান আলগাড়ায়। আপাদমস্তক সরকারী অনুষ্ঠানে স্লোগান চললো গোর্খাল্যান্ডের। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিতেই। আর মঙ্গলবার সন্ধ্যার পরই দার্জিলিঙের চেহারাও বদলে গেল। এদিন রাতেই দার্জিলিঙজুড়ে পোস্টার পড়লো 'গো ব্যাক মমতা'।

    ক্ষোভ গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার কর্মীদের মধ্যে। ক্ষোভ পাহাড়ের মানুষের মধ্যে। ক্ষোভ উগরে দিলেন মোর্চার নেতা বিমল গুরুঙও। মঙ্গলবার উত্তরবঙ্গ উৎসবের পাহাড় ক্ষেত্রের সূচনা পর্বের এই অনুষ্ঠানে কোন রাখঢাক না করে বিমল গুরুঙ বললেন, ''জি টি এ-র নামে উৎসব। অথচ তিনি কিছুই জানেন না।'' জি টি এ-র কাজের ক্ষেত্রেও রাজ্য সরকারের হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলেছেন এদিন বিমল গুরুঙ। মঙ্গলবার এই সরকারী অনুষ্ঠান মঞ্চেই ক্ষোভের পর্দা এমন চড়েছে যে বিমল গুরুঙের বক্তব্য চলাকালীন ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রীকে জেলাশাসকের সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায়।

    প্রতিটা সরকারী অনুষ্ঠানকেই রাজনৈতিক মঞ্চ বানাতে অভ্যস্ত মমতা ব্যানার্জিকেই শেষমেশ মাইক হাতে নিয়ে বলতে হলো ''এটা কোন রাজনৈতিক দলের অনুষ্ঠান নয়। সরকারী অনুষ্ঠান। এ ধরনের স্লোগান দিয়ে ভুল বার্তা দেবেন না।'' সরকারী অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক বক্তব্য চলবে না —এমন কথা উচ্চস্বরে বললেও মুখ্যমন্ত্রী নিজেই এদিন এই অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক বক্তব্য হাজির করলেন। সরকারী মঞ্চ ব্যবহার করেই মুখ্যমন্ত্রী বললেন, দিল্লি কিছুই করে না। 

    শুধু জি টি এ হয়েছে, পাহাড়ের মানুষের কর্মসংস্থান হয়নি। দশ হাজার মানুষের চাকরি হবে বলেও হয়নি। কেন হয়নি? তিনধারিয়া রেল হাসপাতালের জন্য ৫কোটি টাকা বরাদ্দ হবে বলেও হয়নি। তিনধারিয়া লোকো শেডের আধুনিকীকরণ হয়নি। কার্শিয়াঙে রেলের রুগ্‌ণ ছাপাখানার পুনরুজ্জীবন হয়নি। প্রতিশ্রুতি থাকলেও পাহাড়ে রেলের কর্ম বিনিয়োগ কেন্দ্রও গড়া হয়নি। হয়নি পাহাড়ের আবহাওয়াকে ব্যবহার করে ঘড়ি শিল্প ও তথ্য প্রযুক্তি ক্ষেত্রের বিনিয়োগও। কেন হয়নি? মঞ্চ থেকে নয়, মঙ্গলবার উত্তরবঙ্গ উৎসবের পাহাড় ক্ষেত্রের সূচনা পর্বের অনুষ্ঠান মঞ্চের সামনে থাকা দর্শকাসন থেকেই এই প্রশ্ন উড়ে এসেছে। প্রতিশ্রুতির কণামাত্র পূরণ না হওয়ার খেসারত হিসেবেই শুধু ঝাঁকে ঝাঁকে প্রশ্নবাণে বিদ্ধ হওয়াই নয়, এদিন এই সরকারী অনুষ্ঠান মঞ্চেই শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত গোর্খাল্যান্ডের আওয়াজ উঠলো মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিতেই। 

    এদিন গোড়া থেকেই তাল কেটেছে উত্তরবঙ্গ উৎসবের পাহাড় ক্ষেত্রের অনুষ্ঠানে। মুখ্যমন্ত্রীকে ঘিরে পাহাড়ের মানুষের যাবতীয় উৎসাহ উদ্দীপনা উবে গিয়েছিল। দার্জিলিঙের ম্যাল চৌরাস্তায় ভিড় নেই। আর অনুষ্ঠান মঞ্চের সামনেই দর্শকাসন থেকে উড়ে আসা প্রশ্নের মুখে পড়ে মেজাজ হারালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। প্রতিশ্রুতিভঙ্গের অভিযোগের সঙ্গে নানা প্রশ্ন ছুটে এসেছে উপস্থিত পাহাড়ের মানুষের কাছ থেকেই। তিনি বললেন, পাহাড়ের ভাইবোনেদের খুশির মুখ দেখতেই পাহাড়ে আসি। তাদের জন্য কবিতাও লিখেছি। আর পাহাড়ের মানুষ এদিন কী বললেন? বললেন, আমরা এখনও পর্যন্ত শান্ত রয়েছি বলেই পাহাড় শান্ত রয়েছে।

    এদিন এই সভা শেষে মুখ্যমন্ত্রী চলে গেলে বিমল গুরুঙ জি টি এ-র অন্যান্য সদস্যদের নিয়ে ম্যালের কাছেই একটি হোটেলে জরুরী বৈঠকে বসেন। হোটেলের বাইরে তখন রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে মোর্চা সমর্থকদের চড়া ক্ষোভ আছড়ে পড়ছে। বৈঠক শেষে বিমল গুরুঙ সাংবাদিকদের কাছে বলেছেন, আজকের যাবতীয় অনুষ্ঠান জি টি এ-র নামে হলেও আমাকে কিছু জানানো হয়নি। পাট্টা প্রদান থেকে শুরু করে আর্থিক অনুদান সবকিছুই আমাকে অন্ধকারে রেখে করা হয়েছে। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, জমি দপ্তরটি জি টি এ-র অধীনে। অথচ রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে পাট্টা দেওয়া হয়েছে। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, গত ২১শে ডিসেম্বরের মধ্যে সমস্ত দপ্তর বণ্টন করার কথা ছিল। কিন্তু আজ পর্যন্ত তা হয়নি। মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রীর রাজনৈতিক স্লোগান দিতে নিষেধাজ্ঞার প্রশ্নে এদিন বিমল গুরুঙ বলেছেন, স্লোগান দেওয়ার অধিকার মানুষের আছে।

    কোন্‌ দ্বিচারিতার রাজনীতির প্রশস্ত পথ পেরিয়ে আজ ফের পাহাড় ক্ষোভের আগুনের মুখে? রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের প্রচার পর্বেই রাশি রাশি প্রতিশ্রুতি বিলোনো হয়েছিল পাহাড়ের মানুষের কাছে। ২০১১সালের ৬ই ও ৭ই জুলাই মোর্চা ও রাজ্য সরকারের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক চুক্তিতে মৌজার অন্তর্ভুক্তি নিয়ে উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গড়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। এরপর ২০১১সালের ১৮ই জুলাই দার্জিলিঙের পিনটেল ভিলেজে রাজ্য সরকার ও গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার মধ্যে জি টি এ নিয়ে ত্রিপাক্ষিক চুক্তি সম্পন্ন হয়। এরপর নানা পর্বে জি টি এ-র চুক্তি ও আইন রাজ্য সরকার করে ফেললেও সেই আইনে গলদ রয়েছে বলে ধরা পড়লো কেন্দ্রীয় সরকারের আইনজীবীর কাছেই। বিস্তর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও পূরণ হয়নি এতটুকু। অন্যদিকে স্ববিরোধিতার জি টি এ আইন ও চুক্তিকে ঘিরে পাহাড়ের মানুষের মধ্যে ক্ষোভ দানা বাঁধছে দিনে দিনে। প্রশ্ন উঠছে এরপরও কি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী দাবি জানাবেন 'পাহাড় হাসছে' বলে?

    http://ganashakti.com/bengali/news_details.php?newsid=35247


    মুখ্যমন্ত্রী দেখলেন, 'পাহাড় হাসছে না'
    বললেন বিমান বসু

    নিজস্ব প্রতিনিধি

    কলকাতা, ২৯শে জানুয়ারি—''মুখ্যমন্ত্রী নিজেই দেখলেন যে পাহাড় হাসছে না।'' মঙ্গলবার বামফ্রন্ট চেয়ারম‌্যান এবং সি পি আই (এম) পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটির সম্পাদক বিমান বসু এই মন্তব্য করেছেন। এদিন দার্জিলিঙে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব‌্যানার্জির অনুষ্ঠানে পৃথক গোর্খাল‌্যান্ডের দাবিতে বিক্ষোভ দেখান গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার কর্মী-সমর্থকরা। এমনকি, অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রীর পাশে বসেছিলেন যিনি, মোর্চার নেতা বিমল গুরুঙ-ও পরে সাংবাদিকদের জানান, পৃথক গোর্খাল‌্যান্ডের দাবি থেকে তাঁরা সরছেন না। এমনকি, জি টি এ-র মুখ্য নির্বাহী পদ থেকেও বিমল গুরুঙ পদত‌্যাগ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। এদিকে, বিরোধী দলনেতা সূর্যকান্ত মিশ্রকে এদিন উত্তর দিনাজপুর জেলার চাকুলিয়াতে এই প্রসঙ্গে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ''মুখ্যমন্ত্রী পাহাড়ের সমস্যার সমাধান করার বদলে সেখানে 'ফ্র্যাঙ্কেনস্টাইন' তৈরি করেছেন। দার্জিলিঙ সমস্যা নিয়ে আমরা প্রথম থেকেই বলে আসছি—পাহাড়, তরাই, ডুয়ার্সের সমস্যা ভিন্ন। আমরা যখন সরকারে ছিলাম তখনও বলেছি 'গোর্খাল্যান্ড' কখনই নয়। সে সময় প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীকে আমরা বুঝিয়েছিলাম। এই সরকার ক্ষমতায় এসে জি টি এ চুক্তিতে কার্যত 'গোর্খাল্যান্ড'-কে স্বীকৃতি দেওয়া হলো। পাহাড়ের সমস্যা আরও বাড়বে। এখন আবার গটআপ চলছে পাহাড়ে, গড়াপেটা খেলা। পাহাড় সমস্যা আরও কতদিন চলবে তা ভবিষ্যৎই বিচার করবে।''

    এদিন বামফ্রন্ট বৈঠকের পর সাংবাদিক সম্মেলনে বিমান বসুকে এবিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ''নতুন সরকার আসার পর পিন্টেল ভিলেজে কেন্দ্রীয় সরকার, রাজ্য সরকার ও গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার মধ্যে জি টি এ চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর মুখ্যমন্ত্রী সদর্পে ঘোষণা করেছিলেন যে, 'মাত্র ছয় মাসে পাহাড়ের সমস‌্যার সমাধান করে দিলাম।' তারপর গোটা রাজ্যে সরকারী খরচে মুখ্যমন্ত্রীর ছবিসহ হোর্ডিং পড়েছিল যে 'পাহাড় হাসছে'। আজ মুখ্যমন্ত্রী নিজের অভিজ্ঞতাতেই বুঝলেন যে পাহাড় হাসছে না।'' বিমান বসু বলেন, ''আমরা জি টি এ চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার সময়েই বলেছিলাম যে, এই চুক্তির মধ্যেই বিচ্ছিন্নতার বীজ নিহিত আছে। ভবিষ্যতে তা বিপদ হিসাবে দেখা দেবে। ধীরে ধীরে সেই বিপদই এখন প্রকাশ হয়ে পড়ছে।'' 

    এদিন দার্জিলিঙ জেলা বামফ্রন্টের আহ্বায়ক অশোক ভট্টাচার্য বলেন, ''দার্জিলিঙে যে ঘটনা ঘটলো, তার জন্য দায়ী মুখ্যমন্ত্রী নিজেই। কারণ তিনি যে উৎসব, রাস্তা, সেতু ইত‌্যাদি উদ্বোধন করতে পাহাড়ে গেছেন, যা জি টি এ চুক্তি অনুযায়ী ইতোমধ্যেই রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে জি টি এ-তে হস্তান্তরিত হয়ে গেছে। জি টি এ-কে এড়িয়ে তিনি তাদের ঘোষিত অধিকারে হস্তক্ষেপ করতে যাওয়াতে ক্ষোভ হওয়া স্বাভাবিক। ডি জি এইচ সি থাকার সময় বামফ্রন্ট সরকার কখনো তাদের অধিকারে হস্তক্ষেপ করেনি।'' ভট্টাচার্য বলেন, ''আর জি টি এ চুক্তিতে পৃথক গোর্খাল‌্যান্ডকে স্বীকৃতি দিয়ে এখন মুখ্যমন্ত্রী যদি বলেন তিনি গোর্খাল‌্যান্ড চান না, তাহলে তার বিশ্বাসযোগ্যতা কোথায়? সাধারণ মানুষ এই প্রশ্ন তুলছেন।'' তিনি বলেন, ''আমরা চাই দার্জিলিঙের শান্তি, উন্নয়নের মধ্যে দিয়ে এই সমস‌্যার সুষ্ঠু সমাধান হোক। পাহাড়ে আরো স্বশাসন দেওয়ার মধ্যে দিয়েই মানুষের আস্থা ফিরবে। জি টি এ চুক্তিকেও সাংবিধানিক সুরক্ষা দেওয়া উচিত। অপর এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, মুখ্যমন্ত্রী নিজে সরকারী মঞ্চকে ব‌্যবহার করে পাহাড়ে রাজনীতি করতে গিয়েছিলেন। মানুষ আপত্তি তোলায় তিনি এখন বলছেন, সরকারী মঞ্চকে ব‌্যবহার করে রাজনীতি করা উচিত নয়। উনি নিজেই তো সরকারী মঞ্চ ব‌্যবহার করে রীতিমতো পঞ্চায়েত নির্বাচনের প্রচার চালাচ্ছেন।''

    http://ganashakti.com/bengali/news_details.php?newsid=35251


হাসির পাহাড়ে ছন্দপতন
মমতার সামনেই গোর্খাল্যান্ডের দাবি, গুরুঙ্গের গলাতেও ক্ষোভ
দার্জিলিঙে ছন্দপতন! 
এত দিন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পাহাড়ে গেলে যাত্রাপথ থেকেই শুরু হয়ে যেত অভ্যর্থনা। মঞ্চে থাকত সৌহার্দ্যের পরিবেশ। মমতাও বলতেন, 'পাহাড় হাসছে'। 
কিন্তু মঙ্গলবার ম্যালে উত্তরবঙ্গ উৎসবের দার্জিলিং পর্বের সূচনার পরে মুখ্যমন্ত্রীর সভায় আচমকাই সেই সুর কেটে গেল। মুখ্যমন্ত্রী যখন সবে বক্তৃতা শেষ করে আসনে বসেছেন, মঞ্চের সামনেই মোর্চা সমর্থকরা পতাকা উঁচিয়ে স্লোগান তুললেন "জিটিএ নয়, উন্নয়ন নয়, গোর্খাল্যান্ড চাই।" ছিল একটি পোস্টারও। হকচকিয়ে যান অনুষ্ঠানের উদ্যোক্তারা। স্পষ্টই বোঝা যাচ্ছিল, অস্বস্তিতে পড়েছেন গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার সভাপতি বিমল গুরুঙ্গও। মমতা দৃশ্যতই ক্ষুব্ধ। 
পরিস্থিতি তাড়াতাড়ি নিয়ন্ত্রণে আনতে গুরুঙ্গ প্রথমে হাত উঁচিয়ে সকলকে শান্ত করার চেষ্টা করেন। তাতে কাজ না-হওয়ায় উঠে যান মাইকের সামনে। তাতেও পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়নি। তখন চকিতে উঠে পড়েন মুখ্যমন্ত্রী। গুরুঙ্গের হাত থেকে কর্ডলেস মাইক্রোফোনটা কার্যত কেড়ে নিয়ে মোর্চা সমর্থকদের হুঁশিয়ারি দিয়েই তিনি বললেন, "শুনুন, চেঁচামেচি করবেন না। এটা সরকারি অনুষ্ঠান। এখানে রাজনৈতিক স্লোগান দেবেন না। মনে রাখবেন, আমি কিন্তু রাফ অ্যান্ড টাফ।"

উত্তরবঙ্গ উৎসবের মঞ্চে বিমল গুরুঙ্গ ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
পরিস্থিতি তার পরে শান্ত হয়। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী কয়েক মিনিটের মধ্যেই মঞ্চ থেকে নেমে পড়েন। পিছন পিছন নামেন গুরুঙ্গও। মমতা গিয়ে বসেন দর্শকদের সামনের সারিতে। তাঁর বাঁ-পাশে বসেন গুরুঙ্গ। অনুচ্চ স্বরে মমতাকে কিছু বোঝানোর চেষ্টা করেন তিনি। মিনিট কুড়ি পরে মুখ্যমন্ত্রী যখন সভাস্থল ছেড়ে বেরিয়ে যাচ্ছেন, তখন কিন্তু আবার স্লোগান ওঠে 'গোর্খাল্যান্ড চাই।' এই ঘটনার জেরে এ দিন গুরুঙ্গের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর সম্ভাব্য বৈঠকও ভেস্তে যায়। 
সিপিএম এই ঘটনাকে মুখ্যমন্ত্রীর বিড়ম্বনা বলেই দেখছে। বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু এ দিন আলিমুদ্দিনে বলেন, "মুখ্যমন্ত্রী জিটিএ চুক্তি করে সদর্পে বলেছিলেন, পাহাড়ের সমস্যার সমাধান করে দিলাম। আমরা তখনই বলেছিলাম, এ ভাবে সমাধান করা যাবে না। কারণ গোর্খাল্যান্ড যে চূড়ান্ত লক্ষ্য, তা চুক্তির মধ্যেই মেনে নেওয়া হয়েছে।" জিটিএ চুক্তির মধ্যেই গোর্খাল্যান্ডের বীজ রয়েছে, তা জানিয়ে বিমানবাবু বলেন, "বীজ থাকলে এক দিন তা অঙ্কুরিত হবেই। তাই হয়েছে।"
মুখ্যমন্ত্রী অবশ্য এ দিনের সভায় বলেছেন "এটা পরিষ্কার করে জানিয়ে দিতে চাই, দার্জিলিং আমাদেরই অংশ।" কিন্তু মোর্চা যে গোর্খাল্যান্ডের দাবিতে অনড়, তার প্রমাণ মিলেছে এ দিন দিল্লিতে বিজেপি-র বর্ষীয়ান নেতা লালকৃষ্ণ আডবাণীর সঙ্গে দলীয় নেতাদের দেখা করার মধ্যেও। তবে ছোট রাজ্যের দাবির প্রতি দলগত দায়বদ্ধতা থাকলেও লোকসভা ভোটের আগে মমতাকে অসন্তুষ্ট করে মোর্চার আন্দোলন সমর্থন করার অঙ্গীকার করেনি বিজেপি। 
সরকারি মঞ্চে রাজনীতির কথা বলবেন না, মমতার এই বক্তব্যকেও এ দিন কটাক্ষ করেছে বিরোধীরা। বিরোধী দলনেতা সূর্যকান্ত মিশ্র বলেন, "উনি আজ যেটা বললেন, সেটাই দিনের পর দিন করছেন।" আর কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী দীপা দাশমুন্সির কটাক্ষ, "এই উদাহরণ তো মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর দলের নেতারাই তৈরি করেছেন।" গুরুঙ্গও বলেছেন, "সরকারি মঞ্চে রাজনৈতিক কথা তো ওঁরাও বলেন।"

গোর্খাল্যান্ডের দাবিতে পোস্টার। মুখ্যমন্ত্রীর সভায়। —নিজস্ব চিত্র
মমতা এ দিন ধমক দিয়ে মোর্চা কর্মীদের নিয়ন্ত্রণ করলেও ম্যালের সভার তাল কাটতে শুরু করে গুরুঙ্গের একটি বক্তব্য থেকেই। মুখ্যমন্ত্রী এই দিনের সভায় পাট্টা বিলি করেছেন, বিভিন্ন প্রকল্পের চেক ও গৃহনির্মাণ প্রকল্পে ঘরের চাবি তুলে দিয়েছেন স্থানীয় কয়েক জনের হাতে। গুরুঙ্গ মুখ্যমন্ত্রীর সামনেই অভিযোগ করেন, যাঁদের হাতে চেক বা চাবি তুলে দেওয়া হল, তাঁদের বাছাই করা হয়েছে জিটিএ-কে না জানিয়েই। অথচ, জিটিএ-র হাতেই রয়েছে ভূমি ও তা সংক্রান্ত যাবতীয় প্রকল্প। তবে সেই দায়ভার তিনি তখন চাপিয়ে দিয়েছিলেন জিটিএ-র প্রধান সচিব তথা দার্জিলিঙের জেলাশাসক সৌমিত্রমোহনের উপরে। মমতাও অবশ্য সঙ্গে সঙ্গে জবাব দেন, "প্রধান সচিবকে দোষ দিয়ে লাভ নেই। উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দফতরই সমন্বয়ের কাজ করেছে। এখানে ওঁদের (গুরুঙ্গদের) বুঝতে কোথাও ভুল হচ্ছে। এটা কোনও বড় বিষয়ই নয়।" 
মমতার বক্তব্য, পাহাড় যাতে অশান্ত না হয়, সেটাই প্রধান বিষয়। 
না হলে গত দেড় বছরে পাহাড়ে যে পর্যটন-সহ নানা ব্যবসার প্রসার ঘটছে, তা ব্যাহত হবে। তাঁর কথায়, "মনে রাখবেন আমি দার্জিলিং দখল করতে আসি না। বছরে অন্তত দু'বার আসি, যাতে কাজগুলো ঠিকঠাক হয়ে যায়। মনে রাখবেন দার্জিলিংয়ে জিটিএ-ই সব করবে। তবে আমাদেরও দায়িত্ব রয়েছে। সব হবে। আপনাদের কিছু বলার থাকলে আমাকে বলুন।"

ব্যস্ততা। ল্যাপটপ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী। মঙ্গলবার জলপাইগুড়িতে সন্দীপ পালের তোলা ছবি।
কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর কনভয় কালিম্পংয়ের দিকে চলে যাওয়ার পরেই দলের নেতা-কর্মীরা কার্যত ঘিরে ধরেন গুরুঙ্গকে। তাঁকে প্রশ্ন করতে থাকেন, কারা কোন প্রকল্পে সুবিধা পাবেন, তা কেন জিটিএ ঠিক করবে না? বাছাই করা নেতাদের সঙ্গে নিয়ে গুরুঙ্গ তখন কাছে একটি হোটেলে গিয়ে আলোচনায় বসেন। তার পরে সাংবাদিকদের বলেন, "সাধারণত এই ধরনের প্রকল্পের সুবিধা কারা পাবেন, তা স্থির করেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাই। কিন্তু প্রধান সচিব তাঁদের সঙ্গে কোনও আলোচনাই করেননি। সে কথা আমি মুখ্যমন্ত্রীর সামনেই মঞ্চে তুলেছিলাম।" কিন্তু তার পরেও কেন ফের মোর্চা নেতা-কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ল? গুরুঙ্গের বক্তব্য, "আমাদের হৃদয়ে গোর্খাল্যান্ডও তো আছে। তাই ক্ষোভ প্রকাশ পেয়ে যেতেই পারে।" 
তবে মোর্চার অভিযোগ উড়িয়ে সৌমিত্রমোহনের বক্তব্য, "মোর্চার জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করেই মুখ্যমন্ত্রী কাদের হাতে পাট্টা, চাবি বা চেক তুলে দেবেন তার তালিকা স্থির হয়েছিল।" জিটিএ সূত্রে খবর, সৌমিত্রমোহনের সঙ্গে সম্প্রতি মোর্চা নেতৃত্বের দূরত্ব তৈরি হয়েছে। উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী গৌতম দেব বলেন, "আমাদের সব কিছুই নজরে রয়েছে। যথাসময়ে যা বলার বলব। এটুকু বলতে পারি, পাহাড়ে উন্নয়নে বিঘ্ন ঘটাতে কেউ চেষ্টা করলে, তিনি যে তা সহ্য করবেন না, তা এই দিন মুখ্যমন্ত্রী পরিষ্কার করে দিয়েছেন।"
http://www.anandabazar.com/30sil1.html

বিভ্রান্তি, দ্বিধায় চেতি, ইন্দিরারা
চেতি শেরপা তিন দশকের গোর্খাল্যান্ডের অনেক আন্দোলন দেখেছেন। ইন্দিরা সুব্বা, মনিরাম গজমেরাও অনেক আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন। অতীতে সুবাস ঘিসিঙের সঙ্গে পথ চলার পরে পার্বত্য পরিষদ গঠন হলে অনেক আশায় বুক বেঁধেছিলেন ওঁরা। কিন্তু জমির পাট্টা-সহ কোনও সুবিধাই শেষ পর্যন্ত পাননি। ঘিসিং জমনার অবসান হলে বিমল গুরুঙ্গের সঙ্গে পা মিলিয়ে অনেক পথ হেঁটেছেন ওঁরা। শেষ পর্যন্ত গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (জিটিএ) গঠনের পর নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন। সেই স্বপ্ন পূরণের আশায় ওঁরা মঙ্গলবার হাজির হয়েছিলেন দার্জিলিঙের ম্যালে। কারণ, এদিন যে ক'জন ঘরের চাবি এবং পাট্টা পেয়েছেন, তাতে তাঁদেরও নাম ছিল। মুখ্যমন্ত্রীর হাত থেকে পাট্টাও পেয়েছেন।
কিন্তু পাট্টা পাওয়ার কিছুক্ষণ পরেই আচমকা সভামঞ্চের আশপাশ থেকে যেভাবে গোর্খাল্যান্ডের স্লোগান উঠেছে, তাতে ওঁরা অনেকেই হকচকিয়ে গিয়েছেন। কেউ কেউ বিভ্রান্ত। কেউ দ্বিধাগ্রস্থ। কার্শিয়াঙের জ্যোতিমায়া লামা, কালিম্পঙের সাবির গজমের এবং সুখিয়াপোখরির পূর্ণমায়া সোনামেরা প্রায় একই সুরে বললেন, "আন্দোলন করতে করতে আমরা ক্লান্ত। জিটিএ গঠনের পরে পাহাড়ে ব্যবসা বাণিজ্য ভাল হচ্ছে। আমাদের আয়ও বেড়েছে। এখন আবার আন্দোলন হলে সব এলোমেলো হয়ে যাবে। শেষ পর্যন্ত সত্যিই আবার আন্দোলন শুরু হলে কী যে হবে!"
পাশে দাঁড়ানো ইন্দিরা সুব্বা, দোর্জি পেম্বা শেরপারা অবশ্য তাঁদের আশ্বস্ত করার চেষ্টা করলেন। দুই জনের মোর্চার সক্রিয় কর্মী। দুজনেই বললেন, "আমাদের হৃদয়ে গোর্খাল্যান্ড আছে। সেটা যখন হওয়ার হবে। তা বলে দিনের পর দিন ভূমিহীন, গৃহহীন হয়ে থাকা যায়। সরকারি সুযোগ সুবিধা নিতে হবে। হাতের লক্ষ্মী পায়ে ঠেলব কেন? নেতাদের বোঝাতে হবে পাহাড়কে অস্থির না করেও তো আন্দোলন করা যায়। জিটিএ-র পুরো সুযোগ সুবিধা নিয়ে নিতে হবে।"
বস্তুত, পাহাড়ের তিন মহকুমার দারিদ্রসীমার কাছেপিঠে থাকা মানুষের ভাবনার প্রতিফলনই যেন ধরা পড়েছে ইন্দিরা দেবীদের কথায়। সেই কথা মোর্চার কেন্দ্রীয় কমিটির নেতারা অনেকে মানছেন। কেন্দ্রীয় কমিটির একাধিক নেতা অনুষ্ঠানস্থলের পাশে দাঁড়িয়ে তাঁদের আশ্বস্ত করে বলেছেন, "জিটিএ-র মাধ্যমে যা যা উন্নয়ন করার সুযোগ রয়েছে তা করা হবে। ঘাবড়ানোর কিছু নেই। রাজনৈতির বাধ্যবাদকতার জেরে অনেক কিছুই আমাদের করতে হচ্ছে।" খোদ মোর্চার সভাপতি বিমল গুরুঙ্গকেও নেতা কর্মীদের শান্ত করতে গিয়ে বলতে শোনা গিয়েছে, "দুশ্চিন্তার কিছুই নেই।"
পাহাড়ে জিটিএ গঠনের পরে প্রধানত চারটি বিষয় জোর দেয় রাজ্য সরকার। সেগুলি হল-যোগাযোগ, পর্যটন, স্বাস্থ্য ও কর্ম সংস্থান। সেই অনুযায়ী ১৮ কোটি টাকায় রোহিণীর রাস্তার সিংহভাগই সারানো হয়েছে। পাহাড়ে লামাহাটা, তাকদা নতুন পর্যটন কেন্দ্র হয়েছে। লামাহাটা কেন্দ্রটি মুখ্যমন্ত্রী এদিন উদ্বোধন করেছেন। দার্জিলিং।, কালিম্পং, কার্শিয়াং হাসপাতালে জন্য কয়েক কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। মিরিকে পর্যটন কটেজ হয়েছে। এ ছাড়া পাহাড়ের তিন মহকুমায় আইটিআই-র কাজ শুরু হয়েছে। একটি মেডিক্যাল কলেজ করার জন্য কার্শিয়াঙে জমি চিহ্নিত হয়েছে। দার্জিলিঙের হেলিপ্যাডের কাজ এগোচ্ছে। সান্দাফু রুট পর্যটকদের কাছে আকর্ষনীয় করতে মুখ্যমন্ত্রী আলাদা বরাদ্দ ঘোষণা করেছেন। শুধু তাই নয়, প্রত্যন্ত এলাকায় ভূমিহীন এবং দরিদ্র বাসিন্দাদের পাট্টা বিলি ও ঘর তৈরি করে দেওয়ার প্রথম পর্যায়ের কাজ শেষ হয়ে গিয়েছে। পাশাপাশি, দার্জিলিং পুলিশের অধীনে ভিলেজ পুলিশ পদে নিয়োগের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। প্রথম পর্বে এদিনই ৫৫ জনকে প্রশিক্ষিত যুবক যুবতীকে ভিলেজ পুলিশ হিসাবে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিতে। দ্বিতীয় পর্যায়ে আরও ৭৫ জনকে নিয়োগ করা হবে। সেই সঙ্গে দার্জিলিং এবং কার্শিয়াঙে আইটি হাব তৈরি করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে পর্যটন, তথ্যপ্রযুক্তি ও অন্যান্য ক্ষেত্র মিলিয়ে অন্তত ১০ হাজার জনের সরাসরি কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে সরকার মনে করে। পরোক্ষভাবে তা ৫০ হাজার ছড়িয়ে যাবে। মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, "গত দেড় বছরের মধ্যে পাহাড়ে পর্যটনের সুবাদে যা ব্যবসা হয়েছে তা রেকর্ড।"
আর উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী গৌতম দেব বলেছেন, "পাহাড়ের মানুষ রাজনৈতিক দাবি নিয়ে কিছু বলতে চাই না। গত কয়েক বছর ধরে ঘনঘন পাহাড়ে যাতায়াতের সুবাদে বুঝেছি, এখানকার মানুষের অগ্রাধিকারের তালিকার প্রথমেই রয়েছে উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থান। সেটা করার মত ক্ষমতা জিটিএকে দেওয়া হয়েছে। বাদ বাকি সব কাজ রাজ্য সরকার করবে। পাহাড়ের মানুষ তা বুঝতে পারছেন। সেটা আশার কথা।"
http://www.anandabazar.com/30sil2.html
গোর্খাল্যান্ড নিয়ে এখনই সুর চড়াচ্ছে না বিজেপি
গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার নেতাদের সঙ্গে দেখা করলেও ২০১৪-র লোকসভা ভোটের কথা মাথায় রেখে গোর্খাল্যান্ড প্রশ্নে 'ধীরে চলো'-র কৌশলই নিলেন লালকৃষ্ণ আডবাণীরা। আগামী লোকসভা নির্বাচনে এনডিএ-র বিস্তারের কথা মাথায় রেখে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে এখনই চটাতে নারাজ বিজেপি। সে কারণেই মোর্চা নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করলেও গোর্খাল্যান্ড নিয়ে এ দিন খুব বেশি সরব হননি আডবাণী। 
যন্তর-মন্তরে গত কাল ধর্নায় বসার পর আজ আডবাণীর সঙ্গে দেখা করেন মোর্চা নেতৃত্ব। মোর্চা নেতারা দাবি করেন, গোর্খাল্যান্ড প্রশ্নে তাঁদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন বিজেপি নেতৃত্ব। তাঁদের আন্দোলন সম্বন্ধে একটি পূর্ণাঙ্গ রিপোর্টও আডবাণী চেয়েছেন বলে মোর্চা নেতারা জানান। মোর্চা নেতা রোশন গিরি বলেন, "রিপোর্ট পাওয়ার পরে আডবাণী বিষয়টি নিয়ে দলীয় নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা করার আশ্বাস দিয়েছেন।" পাহাড়ে সন্ধির পথে হাঁটলেও দিল্লিতে লড়াই চালু রাখছেন গোর্খা নেতৃত্ব। নিরাপত্তার কারণে আজ যন্তর-মন্তরে ধর্না করার অনুমতি না পেলেও কাল ফের সেখানে বসতে চলেছেন গোর্খা নেতারা। মোর্চা নেতাদের বক্তব্য, বিজেপি নীতিগত ভাবে ছোট রাজ্যের পক্ষে। তেলেঙ্গানা প্রশ্নেও প্রথম থেকেই বিজেপি সরব। রোশনের কথায়, "বিজেপি গত লোকসভা ভোটের নির্বাচনী ইস্তেহারে তেলেঙ্গানার ধাঁচে গোর্খাল্যান্ড গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। আজ সেই বিষয়টি বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্বের সামনে তুলে ধরেছিলাম।" 
বিজেপি পৃথক তেলেঙ্গানার পক্ষে সরব হলেও গোর্খাল্যান্ড নিয়ে এখনই মন্তব্য করতে চাইছে না দল। বিশেষজ্ঞদের মতে, মমতা আগাগোড়াই বাংলা ভাগের বিরুদ্ধে সরব। বিজেপি আবার আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে মমতার সমর্থন পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী। এই অবস্থায় মোর্চার দাবিতে সুর মিলিয়ে কোনও ভাবেই তৃণমূল নেত্রীকে অসন্তুষ্ট করতে চাইছে না বিজেপি। তাই দল তেলেঙ্গানার সমর্থনে সরব হলেও গোর্খাল্যান্ড প্রশ্নে এখনই সুর চড়াতে নারাজ বিজেপি।
http://www.anandabazar.com/30sil3.html

চাষিরা কেন আত্মঘাতী, সরকারের হলফনামা চাইল কোর্ট
রাজ্যের বিরোধী দল বামফ্রন্ট অনেক দিন ধরেই বলে আসছে, ফসলের যথাযথ দাম না-পেয়েই চাষিরা আত্মহত্যা করছেন। এই মর্মে এক আইনজীবী কলকাতা হাইকোর্টে একটি জনস্বার্থের মামলা দায়ের করেন। মঙ্গলবার সেই মামলার শুনানি শুরু হয় প্রধান বিচারপতি অরুণ মিশ্র এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর ডিভিশন বেঞ্চে।
আবেদনকারীর আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য এ দিন ডিভিশন বেঞ্চকে জানান, ২০১১ সাল থেকে রাজ্যে ক্রমাগত কৃষকের আত্মহত্যার সংখ্যা বাড়ছে। তার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, "রাজ্য সরকার কৃষকের কাছ থেকে সহায়ক মূল্যে ধান কিনছে না। তাই কৃষকেরা ব্যাঙ্ক বা মহাজনের কাছ থেকে চাষের জন্য যে-ঋণ নিয়েছিলেন, তা শোধ করতে পারছেন না। নিরুপায় হয়েই তাঁরা আত্মঘাতী হচ্ছেন।" 
এ-পর্যন্ত ৭৮ জন কৃষক আত্মহত্যা করেছেন বলে আবেদনে জানানো হয়েছে। এই দাবির সমর্থনে কোনও তথা আছে কি না, ডিভিশন বেঞ্চ তা জানতে চাইলে বিকাশবাবু জানান, তাঁদের হাতে যথেষ্ট তথ্য রয়েছে।
ডিভিশন বেঞ্চ এই ব্যাপারে রাজ্য সরকারের বক্তব্য জানতে চায়। জিপি অশোক বন্দ্যোপাধ্যায় আবেদনের একটি অংশ উল্লেখ করে বলেন, "যাঁরা আত্মঘাতী হয়েছেন বলে আবেদনে জানানো হয়েছে, তাঁদের মধ্যে এক জনের ২২ একর কৃষিজমি রয়েছে। যাঁর ২২ একর কৃষিজমি রয়েছে, তাঁর পক্ষে ব্যাঙ্ক বা মহাজনের কাছ থেকে নেওয়া ৫০ হাজার টাকা শোধ করা আদৌ অসুবিধাজনক নয়। তাই ঠিক দাম না-পেয়ে কৃষকেরা আত্মহত্যা করছেন, এই অভিযোগ যুক্তিসঙ্গত নয়।"
দু'পক্ষের বক্তব্য শোনার পরে ডিভিশন বেঞ্চ রাজ্য সরকারকে নির্দেশ দেয়, কেন কৃষকেরা আত্মহত্যা করছেন, হলফনামা পেশ করে তা জানাতে হবে। সেই সঙ্গে আবেদনকারীর আইনজীবীকেও তাঁদের হাতে থাকা তথ্য আদালতে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। মামলাটির পরবর্তী শুনানি হবে এক সপ্তাহ পরে।
http://www.anandabazar.com/30raj3.html

No comments:

Post a Comment

Related Posts Plugin for WordPress, Blogger...

Census 2010

Welcome

Website counter

Followers

Blog Archive

Contributors